© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঅন্তর্বর্তী সরকারের দু-একটি বাদে সব কর্মকাণ্ড বৈধতা পাচ্ছে

শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একটি বাদে সব কর্মকাণ্ড বৈধতা পাচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩০ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একটি কর্মকাণ্ড বাদে অধিকাংশ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

একইসঙ্গে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে জারি করা সব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও কার্যদিবসের সীমাবদ্ধতায় অল্প সময়ের মধ্যেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কার্যত মাত্র ১২-১৩ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির কাজ করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানান তিনি।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

এ সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৯ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত সময় হাতে থাকায় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইং, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অধিবেশন চালিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে কিছু বিলের কপি ও কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট সংসদে উত্থাপনের আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করা হয়। এ বিষয়ে সংসদের স্পিকারকে অবহিত করা হলে তিনি কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সময় মার্জনা করার এখতিয়ার প্রয়োগ করেন।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, রহিত বা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়।

গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিকভাবে যে গণভোট, এই গণভোট (১২ ফেব্রুয়ারির) সেই গণভোট নয়। আমার রাজনৈতিক বক্তব্য হচ্ছে, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটের বৈধতার বিষয়টি যখন আমরা এই সরকারের অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের সব কর্মকাণ্ডকে চতুর্থ তফসিলে সাংবিধানিকভাবে বৈধতা (লেজিটিমেসি) দেব, তখন তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বৈধতা পেয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট হয়েছে এবং সেই গণভোটের বৈধতাও রয়েছে। এ জন্য নতুন করে ওই অধ্যাদেশকে আইন করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই আইনের আলোকে তো আর গণভোট হবে না। যদি পুনরায় গণভোট করতে হয়, তবে সাংবিধানিকভাবে অথবা সংবিধানের বাইরে আলাদা একটি আইন পাস করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, (গণভোট নিয়ে বিরোধীদলের) হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নেই, বৈধতা তো আছেই, অবৈধ তো বলছি না। সুতরাং চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকে দু-একটি বাদে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটি লেজিটিমেট হয়ে যাবে।

সংসদে বিরোধী দলের একাধিকবার ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাটের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৯১টি বিল উপস্থাপনের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে জানানো হয়, একাধিক সংশোধনীসহ একই অধ্যাদেশগুলো একত্রে বিল আকারে উপস্থাপন করায় সংখ্যাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হুবহু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সংসদে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিতে নজিরবিহীন।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সংক্রান্ত বিল নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংশোধন এনে এটি আরও গ্রহণযোগ্য করা হবে এবং এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এছাড়া গুম, মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আরও পর্যালোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এসব আইন যথাযথভাবে পরিমার্জন করে ভবিষ্যতে উপস্থাপন করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, তাড়াহুড়োর মধ্যে প্রণীত কিছু অধ্যাদেশে ত্রুটি থাকতেই পারে। এখন সময় নিয়ে আলোচনা করে আরও সমৃদ্ধ আইন প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য। বিরোধী দলের কিছু বক্তব্যে বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হলেও সরকার এসব ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে রয়েছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন