© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কেন শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে?

শেয়ার করুন:
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কেন শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২০ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সুরের জাদুকরী মায়া কাটিয়ে চিরতরের জন্য ওপারে পাড়ি জমালেন সুরলোকের নক্ষত্র, ওপার বাংলার তথা ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের নিস্তব্ধ চার দেয়ালের মাঝে থমকে গেল সেই কণ্ঠস্বর, যা গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কোটি মানুষের হৃদয়ে জোয়ার তুলেছিল।

তবে এই যে আলোর ঝিলিক, এই যে বিশ্বজোড়া খ্যাতি,তার নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল এক পাহাড় সমান লড়াইয়ের গল্প। রূপালি পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে জীবনের প্রতিটি বাঁকে তিনি লড়েছেন একাকী। কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবার কখনো সমসাময়িকদের ভিড়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ, সবকিছুকে হার মানিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অজেয়।



আজ যখন তিনি অমৃতলোকে, তখন পড়ে রইল তার সেই সংগ্রামমুখর জীবনগাথা, যা কেবল এক গায়িকার নয়, বরং এক অপরাজেয় যোদ্ধার গল্প।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রেমে পড়েন আশা। তার চেয়ে ২০ বছরের বড় গণপতারাও ভোঁসলেকে বিয়ে করার জেদ ধরেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত তার পরিবারে বড় ফাটল ধরিয়েছিল।

আশা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম, আর তাই লতা দিদি আমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেননি। তিনি এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। আবার অপর দিকে রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়িতে একজন গায়িকা পুত্রবধূকে কেউ সম্মান দেয়নি।‘

গায়িকার কথায়, ‘সেই সংসারে কেবল অবহেলা নয়, জুটেছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও। তার স্বামী চাইতেন না দিদি লতার সঙ্গে আশার কোনও যোগাযোগ থাকুক। পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন তিনি তাঁর তৃতীয় সন্তান আনন্দের জন্ম দিতে চলেছেন।

সেই যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা মনে করে আশা বলেছিলেন, ‘সেখানে মারধর ও অমানবিক অত্যাচার চলত। অবশেষে আমার ছোট ছেলে আনন্দের জন্মের সময় আমাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।‘ এরপর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

এত কষ্টের পরও কারও প্রতি কোনও ক্ষোভ রাখেননি আশা। তিনি মনে করেন, সেই বিয়ে না হলে তিনি তাঁর তিন সন্তানকে পেতেন না। পরবর্তীতে রাহুল দেব বর্মনের (আরডি বর্মন) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও মনের মধ্যে সেই প্রথম জীবনের ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে তাঁদের বিয়ে হলেও জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন, যদিও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল অটুট।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোঁসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।

এছাড়া তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতে রাজত্ব করেছেন আশা ভোসলে।

হাজার হাজার গান আর অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কয়েক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন