ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১১ প্রস্তাবনা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩৫ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা শহরের যানজট নিরসনকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল।
যানজট নিরসন কমিটির প্রস্তাবনাগুলো হলো- ঢাকা শহরের চারদিকে যে খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা; ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা; মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা; সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাচপুরে, মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করাসহ মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, বাবুবাজার, সায়দাবাদ, মহাখালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তর করা; কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সাথে সংযুক্ত করা অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা; জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা; ঢাকার চারদিকে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা; ফুটপাত দখল মুক্ত করা; ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো; ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নগর পরিবহণ চালু করা; এবং সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে গ্যাস না দেওয়া।
লিখিত বক্তব্যে আবু ইছহাক দুলাল বলেন, প্রতিদিন কমলাপুর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৫২টি কমবেশি ট্রেন ছেড়ে যায় এবং ৫২টি কমবেশি ট্রেন প্রবেশ করে। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিং আছে এর মধ্যে ১১টি স্পেশাল ১৩টি বি ক্লাস। ১১টি কন্ট্রোল করে স্টেশন মাস্টার আর ১৩টি কন্ট্রোল করে গেইটম্যান। ১১টিতে সময় লাগে ১০ থেকে ১১ মিনিট আর ১৩টিতে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ মিনিট সুতরাং আমরা যদি ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট করে হিসাব করি তাহলে দেখা যায়, প্রতিদিন ৭২৮ মিনিট অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট প্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণে। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যানজট সৃষ্টি হয় সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত, সেই সময়টাকে অর্ধেক তথা ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরতে পারি। এই সময়টাকে অন্যান্য যানবাহন হতে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সময় অপচয় হয়ে থাকে তা একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে কতটা অন্তরায় তা সরকারের জানা থাকার কথা। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে এই সমস্যার অনেকাংশই লাঘব হবে।
তিনি বলেন, ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কস্টেবলদেরকে এসএই প্রশিক্ষণ দেবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিক্সার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ করাবে। প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে সচেতন করবে। এতে করে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। যানজট নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
নগর পরিবহণ চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহণ চালু করতে হবে। এতে নন এসি গাড়ি ও এসি দুই ধরনের গাড়িই থাকবে। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া হবে। আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নন এসিতে ভর্তুকি দিবে। এই সুবিধা সাধারণ মানুষ ভোগ করবে। নগর পরিবহণ চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না। প্রতিযোগিতার কারণে রাস্তায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ করবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে
আবু ইছহাক দুলাল বলেন, গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে বরং যেসব রপ্তানিমুখি শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব ফ্যাক্টরিতে এই অতিরিক্ত গ্যাসকে সংযোজন করে উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা উচিত। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, উৎপাদন বাড়বে এবং আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাবে।
কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদ, ইকবাল আহমেদ রেজা, সালাউদ্দিন খন্দকার, মুখ্য সমন্বয়ক- আ.শ. ম. সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন পাটোয়ারী, কোষাধ্যক্ষ ইমতিয়াজ উদ্দিন, সদস্য রেজাউল করিম শিপন, আরাফাত হোসাইন মিনাল প্রমুখ।
এসকে/টিএ