© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমি একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

শেয়ার করুন:
আমি একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪৯ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
পাকিস্তানে ব্যর্থ আলোচনার পরও বেশ কয়েক ঘণ্টা নীরব ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙেছেন তিনি এবং এরপর ইরানকে একের পর এক হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এক দিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি... আমি তাদের পুরো জ্বালানি খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ সব স্থাপনা ধ্বংস করে দিতে পারি, যা তাদের জন্য হবে বিশাল এক ধাক্কা।’
 
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
 
স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
 
আলোচনা শেষ হওয়ার পরও যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, একটি চুক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান এখনও সেটি বিবেচনায় নিয়ে ফিরে আসতে পারে।
 
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা সময় তেমন কিছু বলেননি। তার এই নীরবতাকে কোনো কোনো বিশ্লেষক ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নীরবতা ভেঙেছেন।
 
হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকি 
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পরপর দুটি হুমকিপূর্ণ পোস্ট করে তিনি বলেন, হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেব আমরা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ‘অবরোধ’ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
 
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে তার অভিযোগ, ইরান বর্তমানে সেই পরিস্থিতি হতে দিচ্ছে না।’
 
এরপর ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান তাদের পছন্দের দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করে টাকা কামাবে-সেটা আমরা হতে দেব না। হয় সবাই সুযোগ পাবে, না হয় কেউ না; এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
 
ট্রাম্প জানান, এই অবরোধ ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতোই হবে, তবে এর পরিধি হবে অনেক বড়। এর ফলে আরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকার তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
 
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন। এক পোস্টে তিনি বলেন—‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কখনও ফিরে আসবে না।’ তার ওই হুমকির পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। অনেকেই এমন হুমকিকে যুদ্ধাপরাধের মতো অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। 
 
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের দর কষাকষির হাতিয়ার
 
এদিকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানে যে, এর নিয়ন্ত্রণই এখন তাদের প্রধান হাতিয়ার। উত্তেজনা যত বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম তত বাড়বে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন বিবাদের মূল কারণ হলো, ইরান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দিতে রাজি নয় এবং মনে হচ্ছে আপাতত এটাই তাদের অবস্থান হতে চলেছে।
 
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী কোনো সমস্যা ছিল না। মূল সমস্যাগুলো ছিল পারমাণবিক প্রশ্ন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মার্কিন স্বার্থে আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন কেন্দ্রবিন্দু এই প্রণালীতে স্থানান্তরিত হয়েছে, কারণ ইরানীরা আবিষ্কার করেছে যে এটি একটি অস্ত্র।


আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন