আমি যা চাই তার সবই দেবে ইরান: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৬ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা প্রায় সবকিছুই পেয়ে গেছি, শুধু তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে রাজি নয়।’ ফক্স বিজনেস চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায়। কিন্তু তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এমনভাবে (আলোচনায়) এসেছে যেন সব ক্ষমতা তাদের হাতেই, কিন্তু আসলে তাদের হাতে তেমন কিছু নেই।’ ট্রাম্পের দাবি, ‘আমি মনে করি তারা আবার ফিরে আসবে এবং আমরা যা চাই সবই মেনে নেবে। আমি ৯০ বা ৯৫ শতাংশ চাই না, আমি সবকিছুই চাই।’
পাকিস্তানে ব্যর্থ আলোচনার পরও বেশ কয়েক ঘণ্টা নীরব থাকার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সময় এ নিয়ে কিছুই বলেননি।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নীরবতা ভেঙেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পরপর দুটি হুমকিপূর্ণ পোস্ট করে তিনি বলেন, হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেব আমরা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ‘অবরোধ’ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে তার অভিযোগ, ইরান বর্তমানে সেই পরিস্থিতি হতে দিচ্ছে না।’
এরপর ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।’
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও কিছুদিনের মধ্যেই এটা হবে, এবং খুব দ্রুতই কার্যকর হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রণালী পরিষ্কার করে দেব। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।’
তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান একটি কাজ করতে পারে- প্রণালীতে মাইন (বিস্ফোরক) পেতে রাখতে পারে। ‘একটা মাইন, দুইটা মাইন, দশটা মাইন ফেললেই হবে। তখন এক বিলিয়ন ডলারের জাহাজ থাকলে আপনি ভাববেন, এই মাইনে আঘাত লেগে জাহাজ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাই না।’
তিনি আবারও ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি চাইলে একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি, আর তাদের জ্বালানি অবকাঠামো এক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করতে পারি। তবে আমি সেটা করতে চাই না।’
ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দেখুন, এটা অসাধারণ একটি অংশীদারিত্ব। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, আমরা বড় ভাই, তারা ছোট ভাই। এটা খুব কার্যকর একটি দল হিসেবে কাজ করছে।’
এসকে/টিএ