ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে ‘অবমাননাকর’ পোস্ট, যুবলীগ নেতার ২ মাসের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৪ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ফেইসবুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে পোস্ট দিয়ে ‘আদালত অবমাননার’ দায়ে যুবলীগ নেতা এমএইচ পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তার স্ত্রী ইসমাত জেরিনকে ‘মানবিক বিবেচনায়’ ক্ষমা করেছে ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দণ্ডিত পাটোয়ারী বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, "আসামির অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাজা না দিলে ভুল বার্তা যাবে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আছি এবং আমাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না।
“যেহেতু এই পোস্টটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই তার ন্যূনতম সাজা হওয়া উচিত যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।"
রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার পর এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। প্রথমেই বাবুর স্ত্রী ইসমাত আরার জবানবন্দি নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য অপরাধ স্বীকার দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
পরে নেওয়া হয় বাবুর জবানবন্দি। তিনি নিজের ফেইসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টটি পড়ে শোনান। এ সময় তিনি দাবি করেন, অন্য একটি আইডি থেকে লেখাটি কপি করে তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট বা বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনিও ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আসামির জবানবন্দি শেষে এ মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার বক্তব্য শোনে ট্রাইব্যুনাল।
জোহা বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল তারা মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বাবুর বাসায় অভিযান চালান। তবে সেখানে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।
ডিবি ও মিরপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল বাবুর স্ত্রী ইসমাত জেরিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তিনি চার দিনের মধ্যে তার স্বামীকে আদালতে উপস্থিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এমএ নোমান। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
শুনানিতে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, "আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এই আসামির (ইসমাত জেরিন) জন্য নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন জানাচ্ছি।"
এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, "আসামি কেবল একজন সচেতন নাগরিকই নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতাও। তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আমরা প্রথমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যেহেতু সবাই তার নিঃশর্ত মুক্তি চাইছেন, তাই সাজা কিছুটা কমানো হল।"
এরপর আদালত আসামিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। তবে প্রধান কৌঁসুলিসহ অন্য প্রসিকিউটরদের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সাজা কমিয়ে দুই মাস নির্ধারণ করা হয়।
একইসঙ্গে ওই ফেইসবুক পোস্টে যারা লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের নাম-পরিচয় আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত পাটোয়ারী বাবুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
গত ৭ এপ্রিল আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নিয়ে বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। রোববার দুপুরে তিনি সস্ত্রীক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
পাটোয়ারী বাবু তার ফেইসবুক পোস্টে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি যুক্ত করে ‘বিপুল টাকা লেনদেনের’ অভিযোগ তুলেছিলেন।
এসকে/টিএ