© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আশা ভোসলেকে নিয়ে অভিনেত্রী মুনমুন সেনের স্মৃতিচারণ

শেয়ার করুন:
আশা ভোসলেকে নিয়ে অভিনেত্রী মুনমুন সেনের স্মৃতিচারণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২২ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতীয় সঙ্গীত ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়কে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন প্রাক্তন অভিনেত্রী মুনমুন সেন। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে-এর প্রয়াণের পর দেওয়া এক স্মৃতিচারণায় তিনি তুলে ধরেন ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক যোগসূত্র এবং দীর্ঘদিনের আন্তরিক মুহূর্তের কথা।

মুনমুন সেন জানান, তার স্বামী ভরত দেববর্মণ ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই সুরসম্রাট শচীন দেববর্মণ এবং তার পরিবারে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। সেই সূত্রেই রাহুল দেব বর্মণ-এর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়, যা পরবর্তীতে সঙ্গীত ও পারিবারিক আবেগকে একসূত্রে বেঁধে দেয়।



তিনি স্মরণ করেন, মুম্বইয়ে গেলে দেববর্মণ পরিবারের তরফে নিজের হাতে রান্না করা খাবার পাঠানো হতো, যা তাদের পারিবারিক আন্তরিকতার পরিচয় বহন করত। সেই সময় থেকেই আশার সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা কেবল শিল্পী-পরিচিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পারিবারিক বন্ধনে রূপ নেয়।

এক আবেগঘন মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে মুনমুন সেন জানান, শচীন দেববর্মণের প্রয়াণের দিন তাদের পরিবারের জন্য একটি নিমন্ত্রণ ছিল, যা পরে আর পূর্ণতা পায়নি। সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সেই বুনন আরও গভীর হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি আশাকে “বৌদি” বলে সম্বোধন করতে শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, একবার কলকাতায় আসার সময় আশা ভোসলে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন এবং সেখানেই পরিবারের স্মৃতি, শচীন দেববর্মণের ছবি এবং অতীতের নানা প্রসঙ্গ ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সাক্ষাৎ তাদের সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে।

পরবর্তীতে রাহুল দেব বর্মণের প্রয়াণের দিন তিনি মুম্বাইয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানেই আশার শোকাহত রূপ প্রত্যক্ষ করেন বলে জানান মুনমুন সেন। তার ভাষায়, সেই মুহূর্তে শিল্পীর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন ছিল।

আশা ভোসলের ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনকারী, জ্ঞানী এবং সংযত স্বভাবের মানুষ। সাদা শাড়ির প্রতি তার বিশেষ পছন্দ ছিল বলেও উল্লেখ করেন মুনমুন সেন। তবে সবকিছুর ওপরে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আশার কণ্ঠ ও তাঁর গাওয়া গান।

শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আশার কণ্ঠে বেঁচে থাকা অসংখ্য গান যেন এক অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়ে গেল। সেই সুর, সেই সময় আর ফিরে আসবে না কিন্তু সঙ্গীতের ইতিহাসে তা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন