বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মীদের ডিজিটাল নিরাপত্তায় ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৫ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহায়ক কর্মীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন অ্যাওয়ারনেস ট্রেনিং ২০২৬” শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৩ এপ্রিল রবিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের ক্যাম্পাসের মিডিয়া ল্যাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থী তাদের ‘কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে এই উদ্ভাবনী উদ্যোগটি গ্রহণ ও পরিচালনা করেন।
চারটি বিশেষ মডিউলে বিভক্ত এই প্রশিক্ষণে সহায়ক কর্মীদের ডিজিটাল জগতের নানাবিধ ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।
প্রথম মডিউলে ডিজিটাল সিটিজেনশিপ, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে মৌলিক ধারণা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া খবর প্রচার এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো ঝুঁকির বিষয়গুলো উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়। দেশে প্রচলিত প্রতারণার কৌশল যেমন: ভুয়া লটারি জেতার বার্তা বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রতারণা সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক করা হয়।
দ্বিতীয় মডিউলে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির কৌশল ও এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়। তৃতীয় মডিউলে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই, এবং নির্ভরযোগ্য উৎস চিহ্নিত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরবর্তী মডিউলগুলোতে এআই লিটরেসি, ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার কৌশল এবং সাইবার বুলিং সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে ব্লক করা, রিপোর্ট করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণের মতো বাস্তবমুখী পদক্ষেপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। কর্মশালার শেষ অংশে অনলাইনে ভদ্র আচরণ, দায়িত্বশীলতা, তথ্য যাচাই এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. আফতাব হোসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মীদের এ বিষয়ে জানার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। তাই তাদের জন্যই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।’
কর্মশালাটি বাস্তবায়নে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ। আর আয়োজক সহযোগী ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
টিকে/