আশা ভোসলেকে নিয়ে কুমার শানুর স্মৃতিচারণ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১০ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
গানের জগতে কিংবদন্তি আশা ভোসলের প্রয়াণে আবেগে ভাসলেন কণ্ঠশিল্পী কুমার শানু। তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য গান গাইলেও মঞ্চে ওঠার আগে আশাদিদির মতো শিল্পীর হাতও ভয়ে ঠান্ডা হয়ে যেত এই সত্যিই তাকে বিস্মিত করেছিল।
কুমার শানু বলেন, খবরটি তিনি শুনেছেন আমেরিকায় বসে। মুহূর্তেই মনে হয়েছে, যেন নিজের মাকেই হারালেন। তার কাছে আশা ভোসলের স্থান ছিল সন্তানের মতো, আর সেই সম্পর্কের গভীরতা ছিল নিখাদ আবেগে ভরা।
তিনি আরও বলেন, আশাদিদি ছিলেন আধুনিক ও সমসাময়িক মানসিকতার হলেও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল অটুট। শাড়ি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই তার সাজগোজ ও প্রকাশভঙ্গি গড়ে উঠেছিল। একই পরিবারের দুই কিংবদন্তি, লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলের সঙ্গে তাঁর বহু স্মৃতি রয়েছে বলেও জানান কুমার শানু।
একটি বিদেশ সফরের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ছয় দিন একসঙ্গে কাটানোর সময় আশাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার। সেই সময়ই তিনি বুঝেছিলেন, বাহ্যিক খ্যাতির আড়ালে একজন কতটা সহজ-সরল ও ভাঙা-গড়ার মানুষের মতো হতে পারেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্মৃতি হিসেবে তিনি বলেন, একবার মঞ্চে ওঠার আগে আশার হাত বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এই ভয়ই তাকে আজও গান গাইতে সাহায্য করে। এই ভয় না থাকলে তিনি আর আশা ভোলে থাকতে পারতেন না।

কুমার শানু আরও বলেন, লতা ও আশার কাছ থেকে তিনি শিখেছেন মাটির কাছাকাছি থাকা, অহংকারহীনভাবে শিল্পকে ধারণ করা এবং শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার কৌশল। তার মতে, প্রতিভা কখনোই চাপা পড়ে না, তা একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়ই।
আশা ভোসলের প্রয়াণে ব্যক্তিগত শূন্যতার কথা জানিয়ে কুমার শানু শেষ করেন এক গভীর আবেগে, যেখানে স্মৃতি আর শ্রদ্ধা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
পিআর/টিকে