আমরা পহেলা বৈশাখকে ধারণ করি: জামায়াত এমপি সাইফুল
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৩ পিএম | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম বলেছেন, ইসলাম সবসময় স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে, কনট্রাডিক্ট (বিরোধ) করে না। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। সেজন্য অনেক ভাষা, মত ও রঙের মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় লাভ করেছিল। আজকে বাংলাদেশে তাই আমরা পহেলা বৈশাখকে ধারণ করি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীতে এক বৈশাখী শোভাযাত্রার আগে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত এমপি সাইফুল বলেন, ইসলামের মৌলিক দিক হলো, ইসলাম সকল সংস্কৃতিকে ধারণ করে, যেটা তার তাওহীদ এবং রিসালতের সঙ্গে কনট্রাডিক্ট (বিরোধ) করে না। এই বিষয়ের কারণে সেই মক্কা নগরী থেকে যাত্রা শুরু করে মদিনা ইসলামী রাষ্ট্র তারা পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষের মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক কিন্তু কোনো কিছু নয়। একমাত্র মালিক মহান রাব্বুল আলামীন। এটা দেশের মুসলমানরা বিশ্বাস করে। আজও পল্লী গীতি, ভাওয়াইয়া, আব্বাস উদ্দিনের গান ও জারি-সারি ভাটিয়ালী এই সমস্ত গানগুলো আমাদের দিকের মানুষের এখনও জাগিয়ে তোলে।
বিভিন্ন আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত এমপি সাইফুল বলেন, এই দেশ থেকে শুরু হয়েছিল হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর, শাহ জালাল, শাহ মাখদুম শাহপরানের আন্দোলন। সেই মাদারীপুরের শিবচরে বাহাদুরপুর থেকে হাজী শরীয়তুল্লাহ, ব্রিটিশ যুগে তিনি ডাক দিয়েছিলেন ফরায়েজী আন্দোলনের। এরা আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের ঐতিহ্য খান জাহান আলী। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সব ধরণের সংস্কৃতিকে আমরা ধারণ, লালন ও পালন করবো।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা ইসলামের মূল কথা তাওহীদ ও রিসালতের সঙ্গে বিপরীতমুখী, এমন কোনো কাজ করবো না। আমরা মনে করি এখনও আমাদের এই ঢাকা শহরকে মসজিদের শহরই বলা হয়, অন্য নামে ডাকা হয় না। এখনও পর্যন্ত গ্রামের চাষীরা আজান দিয়ে খেতের পাশে নামাজ পড়ে।
তবে কেউ যদি এ দেশের কোনো সম্প্রদায় বিশ্বাস করে, অন্য কোথাও তাদের মঙ্গল ভাগ্য এবং জড়িত তাদের তাতে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই বলে জানান এমপি সাইফুল। তিনি বলেন, সেই বিশ্বাসে আমরা বাধা সৃষ্টি করতে চাই না। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস সকল ভাগ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। সেই বিশ্বাসে আমরা অটুট থাকতে চাই। তাতে করে অন্যের বিশ্বাসের সঙ্গে কোনো বাধাগ্রস্ত হয় না। দেশের মানুষের যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাস আমরা লালন করবো এবং এটা আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাবো।
আইকে/টিএ