© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাহুলের তোপের মুখে মোদি-মমতা

শেয়ার করুন:
রাহুলের তোপের মুখে মোদি-মমতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১৪ এএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মালদহ, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে পরপর তিনটি জনসভা করে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও তৃণমূল সরকার-দুই পক্ষকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

জনসভায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন, দেশকে বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, ভারতের নীতি ও সিদ্ধান্তে বাইরের প্রভাব বাড়ছে এবং এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে বলেন, দেশের নেতৃত্ব অন্যের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিদেশের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক। একইসঙ্গে তিনি ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, যা সামনে এলে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু কেন্দ্র নয়, রাজ্যের শাসক দলকেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, বাংলায় শিল্পহীনতা, বেকারত্ব এবং দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, লাখ লাখ মানুষ এখনও তাদের টাকা ফেরত পাননি।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে একটি ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের কাজ করাতে গেলে ঘুষ বা প্রভাব খাটাতে হয়। তার অভিযোগ, এ ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও তিনি তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিভাজন ও হিংসার রাজনীতি চলছে। তার অভিযোগ, সংবিধানের ওপর আঘাত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

রাহুল গান্ধীর ভাষায়, বাংলার মানুষ দুদিক থেকে চাপে রয়েছেন একদিকে কেন্দ্রের বিজেপি, অন্যদিকে রাজ্যের তৃণমূল। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ভোটের আগে এদিন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে স্পষ্ট।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন