চীনের তেল-পথ আটকাতে গিয়ে নিজের ফাঁদেই আটকে পড়ছেন ট্রাম্প!
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২৪ পিএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের মানচিত্রে এখন এক অস্থির দাবার লড়াই চলছে, যেখানে হোয়াইট হাউসের প্রতিটি চাল সরাসরি বেইজিংয়ের টুঁটি চেপে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা, হরমুজ প্রণালী এবং সর্বশেষ মালাক্কা প্রণালীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চীনের ওপর যে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাকে অনেক বিশেষজ্ঞই 'মালাক্কা গ্যাম্বিট' হিসেবে অভিহিত করছেন।
তবে প্রশ্ন উঠছে, চীনের বিশাল তেলের মজুদ, বিকল্প পাইপলাইন এবং ছায়া ট্যাঙ্কারের বহর কি ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক কৌশলকে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে?
বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালি অচল করে দেওয়া হয়, যা বৈশ্বিক সমুদ্রবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশের পথ। কিন্তু ইরান দমে না গিয়ে উল্টো গেরিলা কায়দায় পাল্টা আঘাত হানছে এবং চীনের কাছে গোপনে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে মার্চে ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে মালাক্কা প্রণালিতে নজরদারি বাড়িয়ে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ওপর চূড়ান্ত মরণকামড় দিতে চাইছেন, কারণ চীনের আমদানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে।
চীনের জন্য এই 'মালাক্কা উভয়সংকট' অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত দুই দশক ধরেই বেইজিং রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে স্থলপথে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। একইসঙ্গে তারা ১৩০ কোটি ব্যারেলের বিশাল জরুরি তেল মজুদ গড়ে তুলেছে, যা দিয়ে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ মোকাবিলা করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন 'ড্রিল বেবি ড্রিল' নীতিতে তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে চীনকে চাপে ফেলতে চাইছেন, তখন বেইজিং অত্যন্ত কৌশলে তাদের বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব কাজে লাগিয়ে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মালাক্কা প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে ওই অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর ওপর বেইজিং বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামো ঋণের জালে আটকে থাকা দেশগুলোকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের জোটে ফাটল ধরানো চীনের জন্য অসম্ভব কিছু নয়।
এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা ভারতকে এই অঞ্চলে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই শক্তিমত্তার লড়াইয়ে কে আগে পিছু হটে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ।
তবে আপাতত দৃশ্যত মনে হচ্ছে, চীনকে কোণঠাঁসা করার এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী ও অনিশ্চিত যুদ্ধের ফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআর/টিএ