© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ

শেয়ার করুন:
রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪১ এএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের ফেরাতে হতো প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি। তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার রাতটি ছিল কেবলই বাভারিয়ানদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে এগিয়ে আরও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে ছিল রিয়াল। আর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বাভারিয়ানদের। এই অর্ধে মোট তিনটি গোল করেন কেইনরা।

ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!

বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।

আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।

১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।

২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।

২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।



আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।

৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শোধের নেশায় মরিয়া হয়ে ওয়ে বায়ার্ন। তবে রিয়ালের ইস্পাত-লৌহ ডিফেন্স ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। উল্টো ৫৪ মিনিটে সহজ গোল মিস করে বসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ব্রাজিল লেফটব্যাক। ভিনির নেওয়া বুলেট গতির ভলিটি জালে জড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে অতিমানবীয় ক্ষিপ্রতায় এক হাত দিয়ে তা রুখে দেন বায়ার্ন প্রাচীর ম্যানুয়েল ন্যয়ার। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বায়ার্নকে রক্ষা করে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

এ ঘটনার ঠিক ৮মিনিট পর ভিনি আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন। ড্রিবলিং করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। তার সামনে ছিলেন কেমন নয়্যার। তবে ভিনির শট বারের বেশ বাইর দিয়ে চলে যায়।

৬৭ মিনিটে ওলিসের র্কাল শট রিয়ালের বারের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে চলে গেলে বেচে যায় রিয়াল। গুলেরের সঙ্গে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে সেটপিস থেকে তার বাঁকানো শট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

৮৫তম মিনিটে জটলা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুর্বণ সুযোগ পায় বায়ার্ন। প্রথমে লুইস দিয়াস আক্রমণ শানান রিয়াল গোলবারে। সুবিধা করতে না পেরে তিনি বল পাঠান কেইনকে। কিন্তু ডিফেন্স বাঁধায় সুবিধা করতে পারেননি তিনি।

পরের মিনিটে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে রিয়াল শিবিরে। কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। বদলি হিসেবে নামার পর ৭৬তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে ফাউল করে প্রথম কার্ড দেখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর ৮৬তম মিনিটে কেইনকে।

৮৮তম মিনিটে সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান দিয়াস। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বায়ার্ন ওয়ান টু ওয়ানে ব্যস্ত ছিল। দিয়াস ও মুসিয়ালার দুর্দান্ত রসায়নের পর ২০ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো শট নেন দিয়াস। মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বলটি লুনিনের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়ায়। তাতে এগ্রিগেটে এখন ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন!”

যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন ফরাসি রাইট উইঙ্গার। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তিনি।

ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে অলিসের নেওয়া বাঁকানো শটটি গোলপোস্টের কোণা দিয়ে যখন জালে জড়ায়, তখন বার্নাব্যু জুড়ে শুধুই বায়ার্নের জয়গান। এই গোলের সুবাদে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন।

লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন