লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় ২ শিশুসহ নিহত ৫
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৮ এএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের বিমান হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও লেবাননে স্থল অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সীমান্তে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের চাপে লেবাননে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বিবেচনা করছে তেল আবিব।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে লেবাননের কথা থাকলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেই সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, হামলা চলবে।
ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং রাজধানী বৈরুত-এ বারবার হামলা চালাচ্ছে। এই হামলায় ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে হিজবুল্লাহও।
এদিকে লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপের মুখে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইসরাইল। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কথা উঠলে তা নাকচ করে দেয় ইসরাইলি প্রতিনিধিদল। তবে শান্তি ফেরাতে নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তের সিডন জেলার আনসারিয়াহ শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বৈরুত ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের অব্যাহত এই আগ্রাসনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ওই অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও ঘনিভূত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবেইল শহর দখলের খুব কাছাকাছি রয়েছে তার সেনাবাহিনী। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে এবং ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলি হামলার মুখে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে হিজবুল্লাহ। গত কয়েক ঘণ্টায় কিরিয়াত শহরে রকেট হামলা এবং জাবেইলে ইসরাইলি বুলডোজার ও ট্যাংকে হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় তাদের কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রণক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ইসরাইলি বাহিনীর জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তুলছে।
সহিংসতা বন্ধে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসরাইলকে এক সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আরআই/ এসএন