© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীআবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে ‘ব্যঙ্গ’ করেছেন আরাফাত-তাপস

শেয়ার করুন:
আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে ‘ব্যঙ্গ’ করেছেন আরাফাত-তাপস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২০ পিএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ-তাচ্ছিল্যের কথা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন এক সাক্ষী। এর মধ্যে উঠে এসেছে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা উল্লেখ করা হয়। ওই সাক্ষীর নাম মারুফ আল হাসান। মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন মারুফও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ডান হাতে গুলি লাগায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায় এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর।

মারুফ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম থেকেই আমার সমর্থন ছিল। এর প্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই রাজশাহীতে আন্দোলনে অংশ নেই। ১৬ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকে নিহত ও আহত হওয়ায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়। এছাড়া আবু সাঈদের নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাঙ্গ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রী আরাফাত ও মেয়র তাপসও রয়েছেন। এছাড়া যুবলীগের সভাপতি পরশ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিলের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখেছি। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সমর্থন করে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছিলেন বাহাউদ্দিন নাসিম।

সাক্ষী বলেন, এক দফা আন্দোলনের ডাক এলে ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আমরা রাজশাহী তালাইমারী মোড়ে বিক্ষোভ-মিছিলের জন্য একত্রিত হই। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিছিলটি সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের দিকে যাচ্ছিল। আলুপট্টি মোড়ে স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে পৌঁছাতেই আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হলে কিছু সময়ের জন্য আমরা পিছু হটতে বাধ্য হই। একপর্যায়ে আবারও মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাই। ওই সময় হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশ। তখন একটি গুলি আমার ডান হাতের কব্জির ওপরে লেগে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

এই আন্দোলনকারী বলেন, গুলি লাগার পর আমি মিছিল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হই। ওই সময় একটি গলিপথ দিয়ে রিকশা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। ঠিক তখনই মাথায় গুলিবিদ্ধ আলী রায়হানকে মোটরসাইকেল করে একই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম আমার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখান থেকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। সপ্তাহ খানেক চিকিৎসা নেওয়ার পর ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। পরে পঙ্গু হাসপাতালে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। আমি এখনও চিকিৎসাধীন আছি। ডান হাতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি না।

মারুফ বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের মিছিলে ছোড়া আওয়ামী লীগ ও পুলিশের গুলিতে সাকিব আঞ্জুম নামে একজন শহীদ হয়েছেন বলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানতে পারি। ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ আলী রায়হানও মারা যান। পরে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখেছি আমাদের মিছিলে রুবেল নামে একজন দুই হাতে গুলি করেছে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীও গুলি করেছিলেন।

এ সময় এ ঘটনারসঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন মারুফ। একইসঙ্গে এ মামলার সাত আসামিরও সাজা দাবি করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাত আসামিই পলাতক। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

জবানবন্দি শেষে মারুফকে জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। এর মধ্য দিয়ে ঘটনার সাক্ষীর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আগামী ১৯ এপ্রিল শুরু হবে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন