মাঠে আজীবন এন্ট্রিসহ অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৪ এএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অন্যরকম। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক ছাদের নিচে পাওয়া গেল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের শফিকুল হক হীরা থেকে শুরু করে সবশেষ জাকের আলি অনিক এবং তাদের মাঝে আরও যারা ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
তারা সবাই একত্রিত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রবর্তিত ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ গ্রহণ করার জন্য। যা মূলত বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের দারুণ এক উদ্যোগ। এই ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকবেন অধিনায়কেরা।
ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবিধাদির মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটি, এই কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো মাঠে হওয়া যে কোনো খেলা আজীবন ফ্রিতে দেখতে পারবেন অধিনায়কেরা। এসিসি কিংবা আইসিসি ইভেন্টের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাবেন তারা। সাবেক অধিনায়কদের জন্য আগে খেলা দেখার ব্যবস্থা ছিল সৌজন্য টিকিটের মাধ্যমে। সবার জন্য বরাদ্দ থাকত ২টি করে টিকিট। যা বিসিবি থেকে ফোন করে সংগ্রহ করতে হতো তাদের। পরে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে হতো।
নতুন এই কার্ডের আওতায় ভিআইপি সুবিধা পাবেন ক্রিকেটাররা। কার্ড দেখিয়ে সরাসরি স্টেডিয়ামের ক্যাপ্টেনস বক্সে বসে খেলা দেখতে পারবেন তারা। এর সঙ্গে আগের মতো দুটি ম্যাচ টিকিটও তারা পাবেন নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য। ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিআইপি এরিয়াতে ফ্রি পার্কিং সার্ভিস পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কেরা। এছাড়াও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো হেলথ ইনস্যুরেন্সের আওতায় ঢুকে যাবেন তারা।
ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুরুতে এর পেছনে নিজের ভাবনার কথা জানান তামিম। “কেন এই ক্যাপ্টেনস কার্ড আইডিয়াটা এলো? আমরা ক্রিকেটার বা একজন অধিনায়ক যখন অবসরে যাই, সবার একটাই আশা থাকে, সেটা হলো সম্মান। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে আমাদের যারা অধিনায়ক আছেন যাদের কারণে আজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট এই জায়গায়, যারা এর পিলার, এত কিছু আলোচনা-সমালোচনা; এগুলো কিন্তু উনাদের কারণেই।”
“আমরা হয়তোবা সুফলটা ভোগ করছি। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন এত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তখন তাদের প্যাশন ছিল। তাদের এই ভালোবাসা, প্যাশনের কারণেই তারা ক্রিকেট খেলেছেন এবং আজকে আমাদের এত খ্যাতি-যশ ও সবকিছু আছে। এই সবকিছুর শুরুটা তাদের থেকেই। আমি এটিকে মন থেকে সম্মান করি।”
তামিম বারবার মনে করিয়ে দেন, এই ক্যাপ্টেনস অনেক বড় কিছু নয়। তবে সাবেক অধিনায়কদের সম্মান দেওয়ার একটি প্রয়াস মাত্র। “ এই ক্যাপ্টেনস কার্ড কি অনেক বড় কোনো কিছু? অবশ্যই না। ক্রিকেটে তাদের যে অবদান, ওই হিসেবে এই ক্যাপ্টেনস কার্ড অনেক বড় কিছু না। তবে এটা সবেমাত্র শুরু। ক্রিকেট বোর্ড যত বড় হবে, এই কার্ডের সুবিধাও তত বাড়তে থাকবে। আমি খুবই সামান্য জিনিস করেছি, খুব বেশি কিছু না। আজকে থেকে আজীবন এই কার্ডটা হলো আপনাদের পরিচয়।”
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে প্রথম জাতীয় ক্রিকেট দল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জন অধিনায়ক পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। আর ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে নারী ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬ জন। এদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত থেকে ক্যাপ্টেনস কার্ড গ্রহণ করেছেন রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলি অনিক।
বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির আর বেঁচে নেই। এছাড়া ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান নানাবিদ কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। নারী অধিনায়কদের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিলেন শুধু সাবেক অলরাউন্ডার রোমানা আহমেদ।
এছাড়া তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফাহিম খাতুন নানাবিদ কারণে আসতে পারেননি। তবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাপ্টেনস কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
আইকে/টিএ