© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাবাকে হারিয়ে আবেগঘন চিঠি বন্যা মির্জার

শেয়ার করুন:
বাবাকে হারিয়ে আবেগঘন চিঠি বন্যা মির্জার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৭ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
বাবাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন অভিনয়শিল্পী বন্যা মির্জা। প্রয়াত বাবা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারীকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন তিনি, যা এরই মধ্যে ভক্ত ও সহকর্মীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর সময় দেশে ছিলেন না বন্যা মির্জা; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন এই অভিনেত্রী।



শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বন্যা। সেখানে তিনি বাবাকে শুধু একজন অভিভাবক নয়, বরং সৎ, সাহসী ও নিরহংকার মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন।

চিঠিতে বন্যা লিখেছেন, ‘সব সন্তানই বাবাকে সৎ ও সাহসী ভাবতে ভালোবাসে, কিন্তু আমার বাবা সত্যিই তেমন ছিলেন।’ জীবনের প্রতি কোনো অভিযোগ ছিল না তার বাবার- বরং সব সময় চাইতেন সন্তানরা যেন তার কাছাকাছি থাকে।

বাবার জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বড় পদে চাকরি করলেও কখনো বিলাসিতায় জড়াননি তার বাবা। পরিবারকে শিখিয়েছেন সাদামাটা জীবনযাপন, সততার মূল্যবোধ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা। কর্মজীবনেও দায়িত্ববোধের কোনো ঘাটতি ছিল না তার-সময়নিষ্ঠা ও হাসিমুখে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা ছিল তার স্বভাব।

অবসর জীবনে গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি ওপেন হার্ট সার্জারির মতো কঠিন সময় পার করেও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং দৃঢ় মনোবলেই জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন।

তবে সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল তার বাবার শেষ সময়ের স্মৃতি। বন্যা জানান, মৃত্যুর আগের রাতে ভিডিও কলে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন তার বাবা এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। পরদিন সকালেই তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান-যেন বিদায়ের আগে সব হিসেব চুকিয়ে নেন।

পোস্টের শেষে সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন বন্যা মির্জা। পাশাপাশি, কারও মনে তার বাবার কারণে কোনো কষ্ট থেকে থাকলে তাদের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারীর জানাজা আজ (১৭ এপ্রিল) শুক্রবার বাদ জুমা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর মনসুরাবাদ জামে মসজিদে। পরে তাকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কর্মজীবনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অবসরের পর পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের খবরে আগ্রহী ছিলেন। ফুটবল, ক্রিকেট, রাগবি, টেনিস কিংবা গলফ-সব ধরনের খেলাধুলা নিয়েই আলোচনা করতে ভালোবাসতেন তিনি।

বাবাকে নিয়ে এই আবেগঘন লেখায় যেন এক সাধারণ অথচ অসাধারণ জীবনের গল্প তুলে ধরলেন বন্যা মির্জা-যেখানে ভালোবাসা, সততা আর বিদায়ের বেদনা একসূত্রে গাঁথা।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন