কোন ২ কারণে ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৩ পিএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েল হামলা চালায়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। টানা ৩৮ দিন ধরে চলে এই যুদ্ধ। চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
কিন্তু কেন পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় এগিয়ে এল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী আশরাফ দেশের একটি গণমাধ্যমকে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার অনেকগুলো কারণ আছে। প্রথমত ভৌগোলিক কারণ। পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত আছে। আবার পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের একটা কৌশলগত চুক্তি আছে, সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি। এই ইরান যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে, তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। কাজেই এখান থেকে বের হয়ে আসার জন্য তার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে, অন্য অনেক দেশের হয়তো কম থাকবে।’
দ্বিতীয় কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের কিছু সামরিক হামলার শিকার হয়েছে সৌদি আরব। এখন সৌদি আরবের দিক থেকে যদি পাকিস্তানের কাছে চাপ থাকে যে তোমার সঙ্গে আমার নিরাপত্তা চুক্তি আছে, তখন পাকিস্তানকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হয়।’
তবে এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও ছিল বলে মনে করেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করাটা পাকিস্তানের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত না। কারণ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর তার নির্ভরশীলতা আছে। পাকিস্তান পরিস্থিতিটাকে একটা সুযোগ হিসেবে দেখেছে নিজেকে একটা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করার।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা দেখেছি যে ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানের সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ধারণা করা হয় তুরস্কও ইসলামাবাদ সংলাপের পেছনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।’
‘পাকিস্তানের জড়িত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূগোল, আমেরিকার সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব, দেশের শিয়া জনগোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক। সৌদি আরবও চেয়েছে পাকিস্তান এগিয়ে যাক। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সৌদির প্রতিযোগিতা আছে, তাই সৌদি নিজে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের জন্যই ইতিবাচক না। বাণিজ্যের জন্যও না, শান্তির জন্যও না।’
আরআই/টিকে