বিএনপি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৪ পিএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল-সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
মাহদী আমিন বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গিকারবদ্ধ। এগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের শপথ গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় অতিক্রম করে, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাঁকে অবশ্যম্ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে এবং তাঁর নেতৃত্ব, ভিশন ও পলিসি নিয়ে বিস্তৃত ফিচার প্রকাশ করে।
মাহদী আমিন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অর্জিত নিরঙ্কুশ বিজয়কে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
আরআই/টিকে