ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট মার্কিনিরা
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৯ এএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে খোদ খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করেন এই যুদ্ধ মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য সহায়ক নয়।
পলিটিকো এবং পাবলিক ফার্স্ট পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৮ শতাংশ নাগরিক এই সামরিক হামলাকে সমর্থন করছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করা এই অভিযানের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জনসমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় একটি অংশ মনে করছে প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে অবহেলা করছেন। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। প্রায় ৪১ শতাংশ নাগরিকের মতে, ইরান যুদ্ধ নিরসনে হোয়াইট হাউসের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করছেন যে যুদ্ধ শেষের পথে এবং তিনি লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি, কিন্তু মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ তার এই দাবির সঙ্গে একমত হতে পেরেছেন।
রিপাবলিকান ভোট কৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। মিশিগানভিত্তিক রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট জেসন রো জানান, ট্রাম্প একসময় এই ধরনের যুদ্ধ নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিশ্রুত সময়ের চেয়ে যুদ্ধের স্থায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি চলে এসেছে।
এদিকে ইরান সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
এমআর/টিএ