মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই : ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫৬ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে নিজের পদবি ও চাকরির অবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।
মামলার নথিতে তাকে ‘বরখাস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করায় উষ্মা প্রকাশ করে কাঠগড়া থেকে দাঁড়িয়ে তিনি আদালতের কাছে আরজি জানান, তিনি বরখাস্ত নন বরং একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে শুনানিকালে তিনি এই আরজি জানান।
এদিন গুমসহ হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলায় জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এই মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। পরে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে অভিযোগের নথিটি কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউলকে দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান আইনজীবী নাজনীন নাহার। অনুমতি পেয়ে নথিটি হাতে নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে দেখেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
অভিযোগ পড়ার একপর্যায়ে কথা বলার জন্য কাঠগড়া থেকে দাঁড়িয়ে যান জিয়াউল আহসান। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই। কিন্তু এখানে বরখাস্ত লেখা হয়েছে। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বরখাস্ত লেখা হয়।’
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, যখনই কোনো আসামি আইনজীবী নিয়োগ দেন, তখন তার হয়ে আইনজীবীই কথা বলবেন। আসামি চুপ থাকবেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২১ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে তাদের এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। তবে বরখাস্ত লেখায় তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নিয়ে গুমের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ফজলে করিম চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
এসএন