© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিক্ষিকার রিল ঘিরে বিতর্ক, তদন্তে কমিটি গঠন হচ্ছে

শেয়ার করুন:
শিক্ষিকার রিল ঘিরে বিতর্ক, তদন্তে কমিটি গঠন হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫২ এএম | ২৭ জুলাই, ২০২৬
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে গত বৃহস্পতিবার কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে, ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে...’ গানের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিউটি পাল চলতি বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করেন। একপক্ষ ভিডিওটি শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। অন্যদিকে আরেকপক্ষ এসব ট্রল ও বুলিংয়ের নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ‌‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হবে।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সমালোচনা করেন। কেউ কেউ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান। পরে বিউটি পাল ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন।

এ বিষয়ে বিউটি রানী পাল বলেন, ‘সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।’ শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন