খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য শুনতে চাইলো গোটা সংসদ, সময় বাড়লো ৫ মিনিট
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৮ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলছিল। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেঘগন স্মৃতিচারণ করছিলেন তার একসময়ের ব্যক্তিগত সহকারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় বক্তব্যের নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক্রোফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা! খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য শুনতে আগ্রহী হয়ে ওঠে গোটা সংসদ। শিমুল বিশ্বাসের বক্তব্যের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয় আরও ৫ মিনিট!
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদে শিমুল বিশ্বাস তার বক্তব্যে বলেন, 'খালেদা জিয়া আমাদের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। প্রবাস থেকে তারেক রহমান সেনাপতির মতো রণাঙ্গনে কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন সফল করার চেষ্টায় রত ছিলেন। আমরা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শক্তি যখন কথা বলেত ভুলে যাই, কাকে অপমান করে আমরা বড় হতে চাই? সেই বিবেচনাবোধ যখন আমাদের ভেতর কাজ করে না, তখন আমাদের দুর্গতির সতর্কতা জানাই। সম্প্রতি এমন কিছু আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে, যার সুড়ঙ্গ দিয়ে..'
এতোটুকু বলার পর তার কথা আর শোনা যায় না। মাইক্রোফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, 'মাননীয় সদস্য, অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। আপনার অনেক ধরনের স্মৃতি আছে, অভিজ্ঞতা আছে। এগুলো শুনলে হয়তো সংসদ থেকেও..'
ঠিক তখনই সংসদের চারিদিকে ওঠে কোলাহল। প্রথম দফায় ডেপুটি স্পিকার সম্ভবত রোজকার শোরগোল ভেবে হাত উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরে ভুল ভাঙতেই তার মুখে ফুটে ওঠে সৌহার্দের হাসি। শিমুল বিশ্বাসের সময় বাড়াতে ততোক্ষণে টেবিল চাপড়ে বিরোধীদলের উদাত্ত আবেদন!
ডেপুটি স্পিকার তখন বলেন, খালেদা জিয়ার নাম যখন আসে, গোটা সংসদ ঐক্যবদ্ধ হয়। গোটা সংসদের পক্ষ থেকে আপনার সময় বাড়লো আরও ৫ মিনিট। এরপর আরেক দফা টেবিল চাপড়ানোর শব্দ শোনা যায়।
শিমুল বিশ্বাস এবার বলেন, 'ডিবি অফিসে এপার-ওপার (বিরোধীদলের প্রতি ইঙ্গিত করে) আমরা সবাই একসাথে ছিলাম। সেদিন সেই ভীতিকর দৃশ্যের সাক্ষী আমরা সবাই। আমাদের পরস্পরকে দেখানো হতো আতঙ্ক তৈরি করার জন্য। আপসের প্রস্তাব দেওয়া হতো। আমরা মাথানত করিনি। দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে যাদের অবদান, তাদের সবাইকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।'
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী বলে চলেন, 'খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দুনিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটা সম্পদে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার যখন তার নাতনি জাইমা রহমান গ্রহণ করেন, সেই ছবিটা নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মন্তব্য পড়েছে যে— যথার্থ প্রতিনিধি হয়েছে।'
এসএন