জামিন পেলেন জ্যাকুলিনের ‘কথিত’ প্রেমিক, মামলার প্রস্তুতি নায়িকার
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৭ এএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
কোটি রুপির আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের আলোচিত ‘প্রেমিক’ সুকেশ চন্দ্রশেখর কারাগারে থেকেও তাকে নিয়মিত উপহার ও প্রেমপত্র পাঠাতেন। পাশাপাশি দ্রুত দেখা করার আশ্বাসও দিতেন। সেটাই এবার হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি, ৭ এপ্রিল দিল্লি উচ্চ আদালত সুকেশকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। তবে বেঁকে বসেছেন অভিনেত্রী। তিনি উল্টো সুকেশের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
২০০ কোটির আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ২০২২ সালের আগস্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর চার্জশিটে সহ-অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের।

তদন্তকারীদের দাবি, সুকেশের অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি তার কাছ থেকে গয়না, বিলাসবহুল পোশাক ও গাড়িসহ প্রায় ৭ কোটি রুপির উপহার গ্রহণ করেছিলেন।
ইডি আরও অভিযোগ করে, সুকেশ গ্রেফতার হওয়ার পর জ্যাকুলিন নিজের ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলেন এবং শুরুতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন।
এক পর্যায়ে তার পাসপোর্টও জব্দ করা হয়, যা প্রায় দুই বছর পর ফেরত পান। এই সময়জুড়ে তাকে একাধিকবার ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে একটি বড় প্রতারণা চক্রের যোগসূত্র রয়েছে, এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের আওতায়। যদিও জামিন পেয়েছেন, তবুও আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে মোট ৩১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে—এর মধ্যে ২৬টিতে জামিন মিললেও এখনও পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সিদ্ধান্ত কি সুকেশের জন্য নতুন আইনি জটিলতা তৈরি করবে? এর উত্তর মিলবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতিতেই।
পিআর/টিকে