তৌকীর আমাকে অনেক কাঁদিয়েছে: আবুল হায়াত
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৫ এএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
জীবনের ষাট বসন্ত পেরিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শীর্ষক এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে তৌকীর আহমেদকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের বিশিষ্ট নাট্যজনেরা। সে তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন তৌকীর আহমেদের শ্বশুর, বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াত।
তৌকীর আহমেদ বিয়ে করেছেন আবুল হায়াত কন্যা অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতকে। জামাতার এই বিশেষ দিনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবুল হায়াত তার সৃজনশীলতা, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা অজানা কথা তুলে ধরেন।
তৌকীর আহমেদের পড়াশোনার প্রতি অনুরাগ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, সৃজনশীল ব্যক্তি সেই হতে পারে যার এডুকেশন থাকে। এখানে ফ্যাকাল্টিগুলো ডেভেলপ করে। তো সৃজনশীল ব্যক্তি শুধু এডুকেশন মানে প্রথাগত এডুকেশন তো হয় না, তার অন্যান্য এডুকেশনও থাকে। এবং এই একটা জিনিস- তার বিরাট বড় গুণ যে সে বই পড়ে। বিভিন্ন রকম বই পড়ে। আমি যদি তৌকীরের সাথে এক ঘণ্টা বসে আড্ডা মারি, আমার তো মনে হয় আমি অনেক কিছু শিখি।
আবুল হায়াত বলেন, আমার বাসায় যখন তৌকীর আসে বা তৌকীরের সাথে যখন আমার দেখা হয়, আমাদের যে কথাবার্তাগুলো হয়, আমি মনে করি যে আমার একটা ক্লাস হলো, আমি অনেক কিছু শিখলাম। আমরা যারা পুরনো আছি; কিছু কিছু আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা পড়ার অভ্যাস ছিল, ক্লাসে বই ছিল, বই জোর করে দিত স্কুল থেকে, পড়তে হবে, গল্প পরের দিন এসে সেই গল্প বলতে হবে সেগুলো তো হারিয়ে গেছে। কিন্তু তৌকীর যেখানেই যাবে, যখন কোনো মার্কেটে গেলে আমি তাকে খালি হাতে ফিরতে দেখিনি। বই একটা কিনবেই সে।
নিজের মেয়ে বিপাশা হায়াতেরও বই পড়ার প্রবল নেশা রয়েছে উল্লেখ করে এই প্রবীণ অভিনেতা বলেন, বিপাশারও কিন্তু একই রোগ। বিপাশা ক্লাস টেনে যখন পড়ে, তখন বিপাশার কোরআন, বেদ, বাইবেল এগুলো তার পড়া শেষ। চিন্তা করা যায় না! কী পড়ে এত! ও কি রাত জেগে থেকে এতো বই পড়ে? এটা তার নেশা। এবং এখনো সে বই পড়ে। এবং আমাকে সে গল্প বলে। তো এই দুটো মানুষ একত্রিত হলো যেদিন, আমি বলি এখনো যে তৌকির আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে।

বক্তব্যে আবুল হায়াত খানিক রসিকতা ও আবেগের সঙ্গে তৌকীর আহমেদকে ‘ভিলেন’ বলেও অভিহিত করেন! কারণ জামাতা হিসেবে মেয়েকে নিয়ে আবুল হায়াতকে কাঁদিয়েছেন তৌকির আহমেদ! আবুল হায়াত সে কথাই তুললেন। বলেন, যেদিন সে বিপাশাকে নিয়ে গেল, এতো কান্না আমার জীবনে আমি কাঁদিনি। আমার দুটো কন্যা, দুটো কন্যা যেদিন বিয়ে হলো, এই দুই কন্যার বিয়েতে আমি কেঁদেছি। তার মধ্যে তৌকির হলো প্রথম ভিলেন।
জামাতাকে নিয়ে আরও খানিকটা রসিকতা করে বর্ষীয়ান অভিনেতা বললেন, জামাই হিসেবে কিরকম? আমি বলবো যে তার শাশুড়ির কাছে সে হলো শ্রেষ্ঠ জামাই। কারণ তাকে যা খেতে বলে সে তাই খায়। টেবিলে খাবার দেওয়া হয় এবং আমার ওয়াইফের একটা সমস্যা আছে, সে সবসময় খালি তৌকিরের পাতে ঢালতে থাকে। ‘একটাই মাছ, ইলিশ মাছ, আরেক টুকরো নাও।’ ‘আচ্ছা ওটা তো খুব মজা লেগেছে না?’ ‘আরেক টুকরো নাও।’ আর সে ভালো মানুষের মতো, ‘নিচ্ছি মা, নিচ্ছি, আমি বড়টাই নিচ্ছি। আমি বড়টাই নিচ্ছি।’ তো এই যে মাকে খুশি করার জন্য, আমি জানি না হয়তো তার হয়তো খাওয়ার আর উপায় নাই, তারপরও সে তার শাশুড়ি মাকে খুশি করার জন্য সে খায়।
উল্লেখ, ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন বিপাশা হায়াত ও তৌকীর আহমেদ। বর্তমানে বিপাশা অভিনয় থেকে দূরে। অন্যদিকে তৌকীর আহমেদ সিনেমা নির্মাণে সক্রিয় থাকলেও অভিনয়ে তাকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে আবুল হায়াতও নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত; পর্দায়ও দেখা যায় মাঝে মাঝে।
পিআর/টিকে