© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভোট চাইতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে করলেন দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন:
ভোট চাইতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে করলেন দুই শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৫ পিএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন।

নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তার পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে। এরপর বন্ধুত্ব, ভালো লাগা- শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গড়ায় বিবাহবন্ধনে।

ইমন হয়তো রাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়ী হতে পারেননি, তবে ভালোবাসার যুদ্ধে তিনি সফল হয়েছেন। রাকসুকে কেন্দ্র করে প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে, আর সেই পরিচয়ই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সম্পর্কে। রাকসুকে ঘিরে শুরু হওয়া সেই পথচলাই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তে- মুসলিমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া।



চার মাসের প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বাগেরহাটে।

প্রেমের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমন বলেন, রাকসু নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে আমি মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রচার করতে যাই। তখন প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতাম। কিছুদিন পর সে আমাকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠায়। এরপর আমি তাকে মেসেজ দিই এবং টুকটাক কথা হয়।

কিছুদিন পর জানতে পারি, সে শহরের তালাইমারি এলাকায় থাকে। এরপর তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। এভাবে কয়েক দিন একসঙ্গে চা খাওয়া ও আড্ডার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি কীভাবে জানাজানি হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে ইমন বলেন, একবার সে অসুস্থ হলে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তার ভাই আমাকে কল দেন। সেখান থেকেই তার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরে বিয়ে করার। কিন্তু বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে রাজশাহীতে উভয় পরিবারের সদস্যরা এসে কথা বলেন। এরপর ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ১৭ এপ্রিল সবাইকে জানানো হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা ছিল কি না-  এ প্রশ্নে ইমন জানান, শুরুর দিকে পরিবার রাজি ছিল না। আমরা এখনো শিক্ষার্থী হওয়ায় সবাই চাইছিল পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে হোক। কিন্তু আমরা দুজনই নিজেদের পরিবারকে বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে উভয় পরিবার সম্মতি দেয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন জানান, তারা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরি করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

বিয়ের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুসলিমা বলেন, সবকিছু যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে গেল, কিন্তু অনুভূতিটা খুবই আন্তরিক ও গভীর।প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা- সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটা হওয়ায় আমরা আরও স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন