ধর্ম নয়, কাজের রাজনীতি চান ভরত কল
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৭ এএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ভোটের মুখে তারকাদের মতামতকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল অভিনেতা ভরত কলের বক্তব্য। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একাধিক রাজনৈতিক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান- এই প্রশ্নে ভরত কল স্পষ্টভাবেই জানান, তাঁর প্রথম পছন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দলকেই অগ্রাধিকার দেন বলেও মত প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা।
নিজে বিধায়ক হলে কী পরিবর্তন আনতেন- এই প্রশ্নে তিনি জানান, এলাকার স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে জোর দিতেন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক কাজের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের চেয়ে সঠিক মানসিকতা বেশি জরুরি।

শিল্পীদের সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে ভরত কল জানান, বিনোদন জগতের বহু শিল্পী বর্তমানে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে শিল্পীদের জন্য আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজলভ্য করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে ভরত কল বলেন, ক্ষমতার লোভে দল পরিবর্তনের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। এ ধরনের প্রবণতা রোধে কঠোর নিয়ম থাকা উচিত বলেও মত তাঁর।
রাজনীতিতে ঘৃণাভাষণের প্রসঙ্গেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান কিংবা শিল্পের আলোচনা কমে গিয়ে ধর্মীয় বিভাজনকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি ঘুরছে, যা অস্বাস্থ্যকর।
ভাতা রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি উন্নয়নের বিকল্প না হলেও মানুষের টিকে থাকার সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য জরুরি।
তারকা প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, শুধু পরিচিত মুখ হলেই ভোট পাওয়া যায় না, কাজ ও জনপ্রিয়তা দুটোই জরুরি। উদাহরণ হিসেবে তিনি কয়েকজন জনপ্রতিনিধির কাজের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
সবশেষে পছন্দের রাজনীতিবিদ প্রসঙ্গে ভরত কল ইন্দিরা গান্ধী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, জওহরলাল নেহরুর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে তাঁর এই সাক্ষাৎকার ভোটের আগে রাজনৈতিক আবহে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এসএ/টিকে