© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রাম্প ‌‘মিথ্যা’ বলছেন এবং যুদ্ধবিরতির জন্য ‘মরিয়া’: ইরানি জেনারেল

শেয়ার করুন:
ট্রাম্প ‌‘মিথ্যা’ বলছেন এবং যুদ্ধবিরতির জন্য ‘মরিয়া’: ইরানি জেনারেল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১০ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যা বলছেন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক শীর্ষ কমান্ডার। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী লড়াই চালিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশা এবং ক্লান্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক সদরদপ্তরের শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছেন।

ফারস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফারসি ভাষায় দেওয়া বিবৃতিতে মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, ‘‘আইআরজিসি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশা ও ক্লান্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে; যা তাদের মরিয়া হয়ে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে।’’

তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী ‘‘মিথ্যাবাদী ও বিভ্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে’’ মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে ‘‘মিথ্যা আখ্যান তৈরি করতে’’ দেবে না; বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের কোনও প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে যাবে কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ‘‘ইরানের সঙ্গে আজই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’’

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আয়োজনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিনিধি দল পাঠায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক এক প্রতিনিধি বলেছেন, ইরানে পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দেশটির কট্টরপন্থীরা আলোচকদের ওপর কূটনীতির বদলে সংঘাতকে বেছে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তার অবস্থান অনেক শক্তিশালী। তিনি লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আমরা যে চুক্তিটি করছি তা জেসিপিওএর চেয়ে অনেক ভালো হবে। তিনি ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে ওই মন্তব্য করেন।

জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের সেই চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল। বিবিসি বলছে, ওই চুক্তিকে ওবামার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে মনে করা হয়। সম্ভবত এই কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত এটি বাতিল করতে চেয়েছিলেন।তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে নিয়ে আসেন এবং চুক্তিটিকে ধ্বংস করে দেন।

২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তিকে ‘‘ক্ষয়িষ্ণু এবং পচা’’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর জবাবে ইরান সেই সময় বলেছিল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করার প্রস্তুতি নেবে তেহরান।

সেই চুক্তি সম্পন্ন করতে পি-ফাইভ প্লাস ওয়ান (জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং জার্মানি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত দক্ষ ইরানি আলোচকদের টানা ১৮ মাস বৈঠকে বসতে হয়েছিল। বিবিসি বলছে, ইরানি আলোচকরা উচ্চশিক্ষিত ও বহুভাষী, যারা নিজেদের বিষয়ের ওপর পূর্ণ দখল রাখেন। তাই এ ধরনের কোনও বিষয়ে চাইলেই দ্রুত চুক্তি করা সম্ভব নয়।

সূত্র: বিসিবি।


আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন