© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফরিদপুরে আসামি ছিনতাই করতে পুলিশের ওপর হামলা, ৫ সদস্য আহত

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে আসামি ছিনতাই করতে পুলিশের ওপর হামলা, ৫ সদস্য আহত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৩ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে একটি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরশালেহপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেয় তার সমর্থকেরা।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. রফিকুজ্জামান, এএসআই গাজী সোহেল ও কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন। তাদের মধ্যে চারজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরশালেহপুর এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির খাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি ওই এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। আজ সকালে চরশালেহপুর ছোরমান খাঁর বাজার এলাকায় পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
আসামি গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কবির খাঁর অনুসারীরা পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হ্যান্ডকাফসহ কবির খাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

চরভদ্রাসন থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুজ্জামান বলেন, 'কবির খাঁ অত্যন্ত প্রভাবশালী। পুলিশের পোশাকে গেলে সে পালিয়ে যেতে পারে, তাই আমরা ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়েছিলাম। কিন্তু তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফটি ফেরত পাওয়া গেছে।' এ ঘটনায় থানায় নতুন করে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি কবির খাঁর বিরুদ্ধে চরাঞ্চলের শতাধিক মানুষের ভুট্টাখেত ও জমি দখলের অভিযোগে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে চর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, আহত পুলিশ সদস্যদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চারজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এসএস/টিকে

মন্তব্য করুন