হোটেলে ইউপি সদস্যের নিথর দেহ, কীভাবে মৃত্যু হলো জানালেন সেই নারী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৫ পিএম | ০৮ জুন, ২০২৬
বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সেই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়া সদর থানা পুলিশ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে তাকে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত নারীর নাম মোর্শেদা বেগম। তিনি বিপুল চন্দ্র পালের বান্ধবী বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত শনিবার (৬ জুন) দুপুরে বগুড়া শহরের সেঞ্চুরি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। সেখানে ওই নারীর সঙ্গে বিপুলকে দেখা গেছে। তবে লাশ উদ্ধারের পর তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য ওই নারীকে খুঁজছিল পুলিশ।
সোমবার (০৮ জুন) বিকালে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই নারী নিজেকে বিপুল চন্দ্র পালের বান্ধবী বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন ওই কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের পরই বিপুলের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান মোর্শেদা। বিপুলের পরিবার মামলা না করায় ওই নারীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
সদর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তবে স্বামীর পরিচয় দেননি। সেঞ্চুরি মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে বিপুলের সঙ্গে মাস্ক পরা ওই নারীকে দেখার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হতে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় বিপুলের সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী মোর্শেদা বেগম। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী বলেছেন, তাকে নিয়ে হোটেলের ওই কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করেন বিপুল। পরে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর ভয় পেয়ে কাউকে না জানিয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
নিহত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের মেম্বার ছিলেন। তিনি এরুলিয়া পালপাড়া এলাকার মৃত জিতেন্দ্রনাথ পালের ছেলে।
হোটেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিপুল সেঞ্চুরি মোটেলে এসে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে হোটেল থেকে চেক আউটের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনও সাড়াশব্দ মিলছিল না। দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় মোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মৃতের স্বজনদের উপস্থিতিতে ৬১০ নম্বর কক্ষে বিপুল চন্দ্র পালকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কক্ষটিতে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ঘুমের ওষুধ, কোমলপানীয় পাওয়া যায়।
তবে নিহতের স্ত্রী লিপি রানী পাল বলেন, ‘সারিয়াকান্দির রক্সি নামে এক ব্যক্তি আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছেন।’
পুলিশ জানায়, লাশের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। রুমে যৌন উত্তেজক ওষুধ, ঘুমের ওষুধ, কোমলপানীয় ও খাবার পানির বোতল পাওয়া গেছে। পরে লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদা বেগম বলেছেন, বিপুলের সঙ্গে তার ছয় বছরের সম্পর্ক। মাঝে-মধ্যে তাকে নিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলে যেতেন বিপুল। ওই দিন যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের পর শারীরিক সম্পর্ক করেন।
এরপর অসুস্থ হয়ে মারা যান। বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও তদন্ত করছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে মৃতের পরিবার সোমবার বিকাল পর্যন্ত মামলা করেনি। সদর থানায় অপাতত অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুলের বান্ধবী মোর্শেদা বেগমকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মৃতের পরিবার মামলা করলে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’
টিজে/এসএন