আজ বিশ্ব বই দিবস
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৮ এএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের ভিড়ে মানব জীবন যান্ত্রিক হয়ে ওঠেছে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় একাডেমিকের বাইরে সর্বশেষ কোন বইটি পড়েছেন? মনে করতে পারছেন না? ব্যস্ততার ভিড়ে হয়তো সেই অভ্যাসটাই হারিয়ে যাচ্ছে।
তবে আজ কেনো বই নিয়ে এতো আলোচনা।কারণ আজ (২৩ এপ্রিল) বিশ্ব বই দিবস। ১৯৯৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। বই দিবসের মূল উদ্দেশ হলো-বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।
দিনটি মনে করিয়ে দেয় বই শুধু জ্ঞান নয়, এটি ভাবনার জগৎ খুলে দেয়। তাই আজই হতে পারে আবার বইয়ের কাছে ফেরার সেরা সময়। বিশ্ব বই দিবসের ধারণাটি প্রথম আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের বিখ্যাত সাহিত্যিক মিগেল দে থের্ভান্তেস। তার স্মরণে ১৯২৩ সাল থেকে স্পেনে ২৩ এপ্রিল দিনটি পালন শুরু করেন আন্দ্রেস। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
শরীরকে সুস্থ রাখতে যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ককে সচল ও কার্যক্ষম রাখতে প্রয়োজন মানসিক খাদ্য। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বই পড়ার অভ্যাসই হতে পারে মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর খাদ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ, নিয়মিত মানসিক চর্চার ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।
এ ছাড়া বই পড়া মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, কল্পনাশক্তি উন্নত করে এবং যৌক্তিক চিন্তায় দক্ষ করে তোলে। পাশাপাশি মনোযোগ বাড়ানো, ভালো ঘুমে সহায়তা করা, অনুপ্রাণিত হওয়া, সহমর্মিতা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীলতা বাড়াতেও বইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বই শুধু জ্ঞানের উৎস নয় এটি মানুষের জীবনের এক অনন্য সঙ্গী। আপনি যতই তাকে কাছে টানবেন, ততই সে আপনার পাশে থাকবে।
এসএস/এসএন