মসজিদে নববীতে ৭ দশক ধরে চা-কফি পরিবেশন করছে আল সিন্দির পরিবার
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৯ এএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মসজিদে নববীতে আগত জিয়ারতকারীদের কাছে এক পরিচিত ও প্রিয় নাম মোহাম্মদ আলী আবদুর রহমান আল সিন্দি। টানা সাত দশক ধরে তার পরিবার মুসল্লিদের জন্য চা, কফি, ইফতার ও খাবার পরিবেশন করে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা এই আতিথেয়তার ধারা এখন তৃতীয় প্রজন্মের হাতে পৌঁছেছে।
মূলত পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে আগত এই পরিবারটি গত ৭০ বছর ধরে মদিনায় অবস্থান করে আল্লাহর মেহমানদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের দাদা যে সেবামূলক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা তার ছেলে হয়ে এখন নাতির হাতে ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।
বছরের প্রতিটি সময়ই তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার তারা ইফতারের আয়োজন করেন। পাশাপাশি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ—যা আইয়ামে বিজ নামে পরিচিত-সেসব দিনেও মুসল্লিদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। আর পবিত্র রমজান মাসজুড়ে তাদের বিশেষ দস্তরখান থাকে, যেখানে অসংখ্য রোজাদার অংশ নেন।
বর্তমানে এই ঐতিহ্যের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ আলী আবদুর রহমান আল সিন্দি। তিনি জানান, তার দাদা প্রথমে মদিনার আল আইনিয়া এলাকায় একটি ছোট খাবারের স্টল বা ‘সাফরা’ চালু করেন। পরবর্তীতে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ ও সংস্কারের সময় তার বাবা সেই কার্যক্রম বর্তমান স্থানে স্থানান্তর করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি নিজেই পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।
নিজেদের এই দীর্ঘ পথচলা নিয়ে তিনি বলেন, মদিনা একটি বরকতময় ভূমি। তিন প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করা এবং নবীজির মেহমানদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি একটি স্থানীয় প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, মসজিদের নিকটবর্তী ঘরই সর্বোত্তম—আর তাদের কাছে আল্লাহর ঘরের পাশে থেকে মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
মোহাম্মদ আলীর সন্তানরাও মদিনার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে বেড়ে উঠেছে। ফলে পাকিস্তান থেকে আগত এই পরিবারটি এখন মদিনার সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে গেলেও মসজিদে নববীর আঙিনায় এই সিন্ধি পরিবারের আন্তরিক আতিথেয়তা আজও অটুট ও অমলিন রয়েছে।
আরআই/এসএন