হরমুজে মার্কিন অবরোধ১০ দিনে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল দেশের বাইরে পাঠিয়েছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫২ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ- এ মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প- এর নির্দেশে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি থেকে বিরত রাখা।
তবে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরপরই এর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যানালিটিক্স সংস্থা ভোরটেক্সা জানিয়েছে, অবরোধের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর হয়ে দেশের বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মার্কিন অবরোধ চলাকালীন সময়েও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এবং ইরান-সংযুক্ত ট্যাংকার জাহাজের অন্তত ৩৪টি চলাচলের তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি ছিল বহির্গামী এবং ১৫টি আগমনী যাত্রা। বিশেষ করে বহির্গামী যাত্রার মধ্যে অন্তত ৬টি ট্যাংকার তেলবোঝাই ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ভোরটেক্সা। এসব চালানের মাধ্যমেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই তেল আদৌ বিক্রি করা হয়েছে কি না, কিংবা সম্ভাব্য ক্রেতা কারা- সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় আরও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন অবরোধ চলাকালে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ইরানের তেল ক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে- অবরোধ জারি থাকলেও বিকল্প উপায়ে তেল রপ্তানির পথ খুঁজে নিচ্ছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: এপি
এসকে/টিকে