© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন:
তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২০ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
বহুল আলোচিত কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। নমুনা সংগ্রহের পর সেটি মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর মরদেহের জামা থেকে তিনজনের ডিএনএ সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে সেগুলো ম্যাচ করা যায়নি। গত ৬ এপ্রিল মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সেই ডিএনএ ম্যাচ করার আবেদন করেন আদালতে। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে ডিএনএ ম্যাচ করার অনুমতি দেন। ডিএনএ পাওয়া তিনজনই সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। তারা হলেন, সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।

গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসা থেকে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার আদালতে তোলা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হাফিজুরের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে হাফিজুর রহমান রিমান্ডে আছেন। আগামী শনিবার তার রিমান্ড শেষ হবে।

রিমান্ড শেষে শনিবার বা রোববার তাকে পুনরায় আদালতে তোলা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

সিআইডির তদন্তে তনুর মরদেহের কাপড়ে পাওয়া যায় তিন ব্যক্তির ডিএনএ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ডিএনএ ম্যাচ করা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। এ সময় সেই তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচ করার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ডিএনএ পাওয়া তিনজনই সাবেক সেনা সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলম। তাদের মধ্যে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন