১৩ বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণেই আটকে রানা প্লাজা মামলা, বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৯ এএম | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
১৩ বছরেও বিচারিক আদালতের গণ্ডি পার হতে পারেনি আলোচিত রানা প্লাজা মামলা। মূলত সাক্ষ্যগ্রহণেই আটকে আছে বিচারকাজ। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশ খোদ আইনজীবীরাও।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার অদূরে সাভারে ঘটে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা রানা প্লাজা ধস। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন। এতো মানুষের প্রাণহানির এ ঘটনায় বদলে যায় দেশের তৈরি পোশাক খাতের চিত্র। কিন্তু ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব একটা হয়নি।
রানা প্লাজা ধসকে কেন্দ্র করে মোট চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে শুধু ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গের একটি ছোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অবহেলায় হত্যাসহ বাকি তিনটি মামলা এখনো বিচারিক আদালতের গণ্ডি পার হতে পারেনি।
হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ৪১ জন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ছাড়া বাকিরা কেউ পলাতক, কেউ আবার জামিনে আছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, এত বড় মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে আগের সরকারের সময় বিচার প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রবণতাও বিচারকে গতিশীল হতে বাধাগ্রস্ত করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আগের সরকারের সময় বিচার দ্রুত শেষ করার মতো সদিচ্ছার অভাব ছিল। বরং ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় পার হলেও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তেমন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ খান খোকন বলেন, বাকি সাক্ষীরা আসুক, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষ হোক এবং আদালতের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ ঘোষণা করা হোক।
আইনজীবীদের মতে, বর্তমান গতিতে বিচারকাজ এগোতে থাকলে চলতি বছরে রায় ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কেএন/এসএন