© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খাবারের অভাবে কঙ্কালসার ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের সেনারা

শেয়ার করুন:
খাবারের অভাবে কঙ্কালসার ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের সেনারা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৫ এএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
খাবার ও পানির অভাবে শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের সেনারা। সম্প্রতি অপুষ্টির শিকার এমন এক সেনার স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজনের লোমহর্ষক ছবি পোস্ট করেন। এ ঘটনার পর পরই এক শীর্ষ কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, আনাসতাসিয়া সিলচুক নামের এক সেনার স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় খাবারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ দেহের কয়েকজনের ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, চারজন সেনা ফ্যাকাসে ও মারাত্মক অপুষ্টির শিকার; তাদের পাঁজরের হাড় বেরিয়ে এসেছে এবং হাতগুলো অত্যন্ত শীর্ণ হয়ে গেছে।

স্বজনদের দাবি, উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের কুপিয়ানস্ক শহরের কাছে ওসকিল নদীর পূর্ব তীরে একটি ছোট অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ধরে রাখতে এই সেনারা আট মাস ধরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে খাবার ও ওষুধের সরবরাহ শুধুমাত্র ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব ছিল।

সিলচুক পোস্টে লিখেছেন, ‘তারা যখন ফ্রন্টলাইনে গিয়েছিল, তখন তাদের ওজন ছিল ৮০-৯০ কেজির উপরে। কিন্তু এখন তাদের ওজন ৫০ কেজির আশেপাশে।’ তিনি জানান, একবার খাবার পাঠানোর পর টানা ১০ দিন আর কোনো খাবার পৌঁছায়নি। বেঁচে থাকার জন্য সেনারা বৃষ্টির পানি পান করতে এবং বরফ গলাতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা সর্বোচ্চ ১৭ দিন পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন। রেডিওতে তাদের কথা শোনা হচ্ছিল না, অথবা কেউ হয়তো শুনতে চায়নি। আমার স্বামী চিৎকার করে খাবার ও পানির জন্য মিনতি করেছিলেন।’ তার মতে, সমস্যাটি কেবল এই একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ইভান্না পোবেরেঝনুক আরও এক স্বজন জানান, ১৪তম সেপারেট মেকানাইজড ব্রিগেডের এই সেনারা চরম দুঃসহ অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষুধার্ত যোদ্ধারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন।’ তার বাবাকে ওই অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেখানে আটকা পড়ে ছিলেন।

এদিকে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, সেনাদের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কমান্ডারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিগেড কর্তৃপক্ষ লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, শত্রু অবস্থানের খুব কাছে হওয়ায় সেখানে কেবল আকাশপথেই সরবরাহ সম্ভব ছিল।

একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সবকিছু ড্রোনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। রুশরা খাবার, গোলাবারুদ এবং জ্বালানি সরবরাহের দিকে সর্বোচ্চ নজর রাখছে। তারা যতটুকু সম্ভব মাঝপথে বাধা দিচ্ছে এবং ধ্বংস করছে। কখনো কখনো তারা আমাদের সামরিক সরঞ্জামের চেয়ে লজিস্টিক সরবরাহের ওপর বেশি আক্রমণ চালায়।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যবর্তী ‘গ্রে জোন’-এ উভয় পক্ষই নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে সেনাদের সম্মুখ অবস্থানে পৌঁছাতে ১০-১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সিলচুক জানিয়েছেন, বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘একজন নতুন কমান্ডার এসেছেন। তিনি আমাদের ফোন করে বলেছেন যে পরিস্থিতির সমাধান করা হচ্ছে। সত্যিই তাই হচ্ছে। আমার স্বামী লিখেছেন, গত আট মাসে যা খেয়েছেন তার চেয়ে বেশি আজ একবেলাতেই খেয়েছেন।’

তবে তিনি যোগ করেন, ‘সৈন্যরা এখন অল্প অল্প করে খাচ্ছে। তাদের পাকস্থলী সংকুচিত হয়ে গেছে এবং তারা জানে না আগামীকাল খাবার পাবে কি না। আমি মনে করি এই বিষয়টি জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন ছিল। এখন তাদের পরিবর্তন (রোটেশন) এবং সুচিকিৎসা দরকার।’

ইউক্রেনের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। তাদের দাবি, ‘সম্প্রতি ১৪তম ব্রিগেডের ওই অবস্থানে খাবারের আরও একটি চালান পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দ্রুতই সেনাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন