© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাসপাতালে ‘টিকা নেই’ বিতর্ক, ৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

শেয়ার করুন:
হাসপাতালে ‘টিকা নেই’ বিতর্ক, ৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫১ এএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক বা অ্যান্টি-রেবিস টিকার কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে জেলার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে টিকা সংকটের খবর দেখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে তাদের বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্ট্যানোটাইপিস্ট মিজানুর রহমান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে আসেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হাসপাতালে টিকা না পেয়ে রোগীকে বাইরে থেকে টিকা কিনতে হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ টিকার সংকটের কথা জানিয়েছে। তবে পরিদর্শনে এসে তিনি হাসপাতালে টিকার মজুদ পেয়েছেন।

দায়িত্বশীল পদে থেকে ভুল তথ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা আছে, কাজেই টিকা নেই বলা সম্পূর্ণ অসত্য। বিবিসির নিউজ দেখে আমি কোনো দেরি না করে ডিজি মহোদয়কে নিয়ে এখানে চলে এসেছি। নিউজে বলা হয়েছে টিকা নেই, কিন্তু আমরা এখানে এসে ২৫টি ভায়াল স্টকে পেয়েছি। এই নিউজের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এটা এক ধরনের সাবোটাজ। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এভাবে ওপেন ইন্টারভিউ দেয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এটা সরকারের ক্ষতি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোথাও ঘাটতি থাকত, আমাদের জানাতে পারত। ডিজি আছেন, ডিসি আছেন, এমএসআর ফান্ড আছে। একটা ভায়াল দিয়ে চারজনকে টিকা দেয়া যায়। ১০টি ভায়াল কিনতে মাত্র ৫ হাজার টাকা লাগে। আমি দেখে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। সুপারকে ক্লোজ করেছি, তিনি আর এই চেয়ারে বসতে পারবেন না। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আমরা বাল্ক টিকা পেয়ে যাব। গত দেড় মাস আমরা বাইরে থেকে টিকা কিনে দিয়েছি, চিকিৎসা বন্ধ হয়নি।’

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক কিছু শর্তের কারণে সাময়িকভাবে টিকা সরবরাহে জটিলতা তৈরি হলেও ইতোমধ্যে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শর্ত শিথিল হওয়ার পর আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকা সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত দেড় মাস ধরে এমএসআর ফান্ড ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মিজেলস বা হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নির্ধারিত সময়ের টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় শিশুদের বড় একটি অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রায় ২০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে মন্ত্রী জানান, এই হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে ডিপিপি পর্যায়ে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত মানু এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন