যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাপাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৮ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ. আর. ম্যাকমাস্টার।
পাকিস্তানকে চীনের ‘প্রভাবাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় ‘গোপন উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে।
একটি বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাকমাস্টার বলেন, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানকে অবশ্যই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি ‘ক্লায়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অবশ্যই ইরানের বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্বার্থ জড়িত আছে।’
এমন প্রেক্ষাপটে ম্যাকমাস্টার ইঙ্গিত দেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি সম্ভবত নিরপেক্ষ নয়। এই মধ্যস্থতার জন্য নিজেদের সহায়তা দেওয়ার পেছনে সম্ভবত দেশটির কোনো গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ম্যাকমাস্টার বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই হতাশাজনক।’
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করে বলে অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান অনেক সময় আপনাকে বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার কথা বলে… অথচ একই সময়ে… তারা আপনার শত্রুদেরও সমর্থন করে।’
তার মতে, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা-বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তেল ক্রয়ের মাধ্যমে-ইরানি শাসনব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। তারা ইরানি শাসনব্যবস্থার ‘এটিএম’ চালু রাখতে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল কিনে নেয়। এ ধরনের সহায়তা তেহরানকে তার আঞ্চলিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম করে তোলে।
আরআই/টিকে