প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে হয়েছিলেন নেতা, তিন দশক পর সেই আন্দোলনেই পতন ধর্মেন্দ্র প্রধানের
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪১ পিএম | ২৫ জুলাই, ২০২৬
ধর্মেন্দ্র’র প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র ১৮ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন এবিভিপির একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে আবির্ভূত হন।
তিনি উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ১৯৯৪ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুইবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতে, ১৯৯৭ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশায় একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই সময় প্রধান এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ধর্মেন্দ্র।
বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মেন্দ্র’র জুনিয়র ছিলেন প্রশান্ত রাউত। সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেই বিক্ষোভের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। প্রশান্ত রাউত বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ের সামনে ওড়িশা সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ করেছিলাম। সেখানে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিল।’
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর আগে পর্যন্ত বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে খুব মারধর করা হয়েছিল। তার কয়েকটি হাড়ও ভেঙেছিল।’
রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে সেই সময়ের ক্যাম্পাস নির্বাচনগুলো প্রায়শই সহিংস রূপ নিত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্বাচনের সময় যখন এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ধর্মেন্দ্র’র জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন তিনি জনতা দলের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির দ্বারা আক্রান্ত হন। ঘটনাটি স্মরণ করতে গিয়ে রাউত বলেন, ‘শুধুমাত্র ভাগ্যের জোরেই তিনি আজ বেঁচে আছেন।’
ছাত্র রাজনীতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাটানো বছরগুলোই বিজেপির অভ্যন্তরে তার দীর্ঘ সাংগঠনিক কর্মজীবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয়ও সামলেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রায়শই কয়েক দশক ধরে ওড়িশাজুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তারে সহায়তার জন্য তাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। সেই প্রচেষ্টা ২০২৪ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, যখন বিজেপি ওড়িশায় তার প্রথম সরকার গঠন করে এবং নবীন পট্টনায়কের অধীনে বিজু জনতা দলের (বিজেডি) দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটায়।
ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের কারণে ১৯৯৭ সালের সেই প্রতিবাদটি আবার জনসমক্ষে এসেছে।
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে মাসব্যাপী হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে আসছেন। তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দাবি আদায়ে তীব্র বিক্ষোভ দমনে কঠোরও হয়েছিল বিজেপি সরকার। দিল্লি পুলিশ তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে অন্তত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশি বর্বরতার শিকার হয়ে আহত হওয়ার পর ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে রাজধানীর একটি সুপরিচিত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। এর ফলে আরও তীব্র হয়ে ওঠে আন্দোলন। বিরোধী দলগুলোও দাবি করে, নিট ইস্যু নিয়ে যেকোনো আলোচনার আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র।
আরআই/টিকে