যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পৌঁছানোর আগেই ইসলামাবাদ ত্যাগ করল ইরানের প্রতিনিধিদল
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৭ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইসলামাবাদে দিনভর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করেছে। আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদল দিনভর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা দাবির তালিকা পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেই প্রতিনিধিদলটি ফিরে যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ইসলামাবাদের বিশেষ প্রচেষ্টার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আরাগচি ও তার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি।
পাকিস্তান সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে ওমান ও রাশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আজ পাকিস্তানে পৌঁছাবেন।
পাকিস্তানে তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বেড়েছে। হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। সহস্রাধিক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কারণে ইসলামাবাদে টানা সাত দিন ধরে সড়ক বন্ধ। এতে শহরের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, নিত্যপণ্যের বাজার এবং বিচারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে জনজীবনে দেখা দিয়েছে ক্রমাগত চাপ বাড়ছে।
আরআই/টিকে