© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনিশ্চিত, বাড়ছে উত্তেজনা

শেয়ার করুন:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনিশ্চিত, বাড়ছে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৩ এএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আলোচনার দায় চাপিয়ে দিলেও, তেহরানের নেতৃত্ব ক্রমেই আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। পাকিস্তানে মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওমান ও পরে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী কি না- তা এখনও পরিষ্কার নয়। খবর আল জাজিরার। 

অন্যদিকে, ট্রাম্প সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনা বাতিল করে দাবি করেন, ‘সব কার্ড আমাদের হাতে, তাদের হাতে কিছুই নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা কথা বলতে চাইলে শুধু ফোন করলেই হবে।’

এদিকে, ইরানে প্রায় দুই মাস ধরে চলা কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধের মধ্যেও সরকার ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বারবার ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় বলা হচ্ছে, দেশজুড়ে সবাই ‘বিপ্লবী’ এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ‘পূর্ণ আনুগত্যশীল’। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, ৩ কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি নিয়েছে- যদিও এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ ও  ‘দস্যুতা’ চালিয়ে যায়, তবে তারা কঠোর জবাব দেবে। হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।

দেশটির ভেতরে সমর্থন জোরদার করতে প্রতি রাতেই সমাবেশ ও বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তেহরানের এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুদ্ধের সময় অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। তবে কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এখনও সাবেক সংস্কারপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ বিরোধী কণ্ঠ দমন অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া একজনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মানবাধিকার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধই যুদ্ধবিরতি দুর্বল করে দিচ্ছে এবং কঠোরপন্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। তারা মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা এখন আর যৌক্তিক নয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও ইঙ্গিত মিলেছে- চাপের মুখে নতুন করে কোনো আলোচনা সম্প্রসারণে তারা আগ্রহী নন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের সরকার আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে, অবরোধ চলছে- এ অবস্থায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি কর্মকর্তারা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন।

এর মধ্যেই সীমিত পরিসরে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে। হজযাত্রীদের পরিবহনের জন্য এই ব্যবস্থা।

সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন