© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী এমপি নিয়ে মোদী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

শেয়ার করুন:
তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী এমপি নিয়ে মোদী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৯ এএম | ১০ জুন, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চারবারের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার এখন দলটির বিদ্রোহী এমপিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তৃণমূল এমপিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি বিদ্রোহী ব্লক গঠন করেছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্কে চূড়ান্ত ইতি টানার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।

বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন ‘এনডিএ’-তে জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘জনগণের রায় অনুযায়ী আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ এনডিএ-র সঙ্গেই হওয়া উচিত। আমিসহ প্রায় ২০ জন তৃণমূল এমপি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-র অংশ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পেশায় চিকিৎসক ৬৬ বছর বয়সী কাকলি ঘোষ দস্তিদার কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে এই মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস সামাল দিয়েছিল, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। দলটির অবস্থানের সমালোচনা করে এবারই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুললেন।

এদিকে কাকলি ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনোই ভালো ছিল না। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক তাকে বারাসাত আসন থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মমতার হস্তক্ষেপে তিনি টিকিট পান এবং জয়ী হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি তৃণমূলের লোকসভার ‘চিফ হুইপ’ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জিকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগপত্রে কল্যাণ ব্যানার্জির ‘আপত্তিকর ও গালিগালাজপূর্ণ আচরণের’ তীব্র সমালোচনা করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও কল্যাণ ব্যানার্জিকে প্রশ্রয় ও পদোন্নতি দিয়েছেন। অপরদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা লাগাতার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চোখ বন্ধ করে রেখেছিল বলে দাবি করেন কাকলি। কোনো সংশোধনী পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত মাসের নির্বাচনে দলটির বিপর্যয় ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসক ও রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। তার স্বামী ডা. সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার ভারতের আইভিএফ বা টেস্টটিউব শিশু চিকিৎসার অন্যতম পথিকৃৎ।

রাজনৈতিকভাবে তার পরিবার ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। তার মামা পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক প্রধান ছিলেন এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) পাঁচবারের প্রখ্যাত সংসদ সদস্য গুরুদাস দাশগুপ্ত তার আত্মীয়।

আরআই/ এসএন

মন্তব্য করুন