গুরুতর অসুস্থ একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৯ পিএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)- তে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন কবির কন্যা পরমা।
জানতে চাইলে তিনি রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাবার কিডনি ফাংশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরিন করতে পারছিলেন না। ফলে পুরো শরীরে এসিড ছড়িয়ে পড়ে। সেইসঙ্গে হার্টবিট অনেক হাই হয়ে যায়। এর মধ্যে একটা মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়।
এমন অবস্থায় তাকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় সেখানে থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)- এ নেওয়া হয়।’
পরমা জানান, কবির পুরো শরীরে এসিড ছড়িয়ে যাওয়ায় মুখে এক ধরনের জটিলতাও হয়েছে। মুখে অপারেশন দরকার। কিন্তু ক্রিটিনিন হাই, লাংয়ে পানি জমা, বয়স বেশিসহ অন্যান্য জটিলতা থাকায় তার অপারেশনটা করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা এই মুহূর্তে হার্টবিট কমানোর চেষ্টা করছেন।
এখন ইলেকট্রিক শক থেরাপি দরকার। কিন্তু উনার হার্টে সমস্যা, শরীরে ইনফেকশন এবং বয়স বেশি সব মিলে সেখানেও জটিলতা। সোমবার চিকিৎসকরা জানাবেন কী করা যায়।
কবি স্বাভাবিকভাবে খেতেও পারছেন না। কথা বলছেন না। নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। উন্নতি হবে কিনা তা এখনো চিকিৎসকরা বলতে পারছেন না বলেও জানান কবি কন্যা।
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান।
কবি আল মুজাহিদী এক সময় দেশের একটি গণমাধ্যম দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কবি আল মুজাহিদী কবিতা, উপন্যাস, শিশু সাহিত্য অনুবাদসহ অনেক শাখায় কাজ করেছেন। তার অনেকগুলো গ্রন্থও রয়েছে। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে- হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রূপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ।
ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ।
কালান্তরের যাত্রী নামে তার গবেষণা গ্রন্থও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিশু সাহিত্যগ্রন্থের মধ্যে ‘হালুম হুলুম’, ‘তালপাতার সেপাই’, ‘শেকল কাটে খাঁচার পাখি’, ‘সোনার মাটি রূপোর মাটি’ ও ‘ইস্টিশানে হুইসেল’ অন্যতম।
কবি আল মুজাহিদীর সমাজ ও সমাজতত্ত্ব নামে প্রবন্ধগ্রন্থও রয়েছে। অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাইফি আজমির কবিতা’, ‘পৃথিবীর কবিতা’, ‘আহমদ ফরাজের কবিতা’, ‘ঊর্দূ কবিতা’, ‘হিন্দি কবিতা’ ও ‘হাইনরীশ হাইনে’র কবিতা।
তার জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’, ‘জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’, ‘বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক’ ও ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন।
এসকে/টিকে