দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে অহংকার বিসর্জন দিতে চান তামিম ইকবাল
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১১ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল আবারও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন।
তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি অহংকার ও রাগ বিসর্জন দেওয়ার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেবেন।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর মোহাম্মদ ইসামের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক এই জাতীয় অধিনায়ক বলেন, ‘আমি আমার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে খুব স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে আমি পরবর্তী নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য লড়াই করব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্টেকহোল্ডাররা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার দাবিদার।’
সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি চান না তামিম।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্প্রতি দেখেছেন কীভাবে বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রায় থমকে গিয়েছিল। খেলোয়াড়রা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল, তাই আমরা চাই না সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হোক।
নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমার যে রূপকল্প রয়েছে, তা নিয়ে কাজ শুরু করব।’ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের অধিনায়ক থেকে বিসিবি সভাপতি হওয়ার মধ্যকার বিশাল পার্থক্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। অধিনায়ক হিসেবে মনোযোগ যেখানে থাকে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর, সভাপতি হিসেবে তা সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর নিবদ্ধ হয়।
অধিনায়ক এবং বোর্ড সভাপতির দায়িত্বের পার্থক্য নিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে আপনি শুধু ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে আপনাকে সামগ্রিক উন্নয়নের কথা ভাবতে হয়। শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচিং স্টাফ এবং বোর্ডের কর্মচারীদের কথাও ভাবতে হয়। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আপনাকে আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আপনাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করতে হবে।’
৩৭ বছর বয়সী তামিম বিসিবির সর্বকনিষ্ঠ সভাপতিদের একজন। তিনি মনে করেন, উপমহাদেশে কেউ তরুণ হলে তাকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া মানুষের জন্য কিছুটা কঠিন হয়। এক্ষেত্রে সবাইকে সম্মান জানিয়ে কাজ করতে চান, ‘আমি এখানে হুকুম দিতে বা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আসিনি। সভাপতির চেয়ারে বসে আমার অহংকার এবং রাগ বিসর্জন দিতে হবে। এটাই আমার মানসিকতা এবং এভাবেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে চাই।’
নারী ক্রিকেটের বিষয়ে তামিম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে এবং তারা যা সহ্য করেছে, তার প্রেক্ষিতে তাদের সামগ্রিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাই আমার এক নম্বর অগ্রাধিকার।’
ক্রিকেটের প্রচারণার বিষয়েও তামিম তার মতামত তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলা হলেও এর আরও প্রচার প্রয়োজন, বিশেষ করে শহর, ছোট শহর এবং গ্রামগুলোতে। বড় কোম্পানিগুলো যেমন তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার চালিয়ে যায়, ক্রিকেটকেও তেমনিভাবে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
আইসিসি এবং অন্যান্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমি স্পষ্ট যোগাযোগে দৃঢ় বিশ্বাসী। অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার সময় আপনাকে আরও কৌশলী এবং যৌক্তিক হতে হবে।’
ইউটি/টিএ