৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লজ্জার রেকর্ড, আরও যত কীর্তি
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৪ এএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
আগের ম্যাচে ২৬৪ রান করেও জিততে পারেনি দিল্লি ক্যাপিটালস। কেবল আইপিএল–ই নয়, পাঞ্জাব কিংস টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। দিল্লি সেই হতাশা থেকেই কি না এবার চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয় দেখল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। এবার গুটিয়ে গেল স্রেফ ৭৫ রানে। যদিও এটাই আইপিএলের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ নয়। তবে ৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে লজ্জার রেকর্ড গড়েছে দিল্লি।
এতদিন আইপিএলের পাওয়ার প্লেতে সর্বনিম্ন (৬ ওভারে ১৪ রান) সংগ্রহের রেকর্ডটা ছিল রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। ২০০৯ আসরে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে রাজস্থান এবং ২০২২ আসরে রাজস্থানের বিপক্ষে হায়দরাবাদ ৬ ওভারে মাত্র ১৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। এবার তাদেরও ছাড়িয়ে গেল দিল্লি। অক্ষর প্যাটেলের দল গতকাল (সোমবার) বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে চরম বিপর্যয়ে পড়ার পর পাওয়ার প্লেতে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩ রান তোলে।
এ ছাড়া আইপিএলের এক ইনিংসে পাওয়ার প্লেতে এরচেয়ে বেশি উইকেট পড়ার রেকর্ড নেই কোনো দলের। ২০১১ সালে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে প্রথম ছয় ওভারে ৬ উইকেট হারিয়েছিল কোচি টাস্কার্স কেরালা। এ ছাড়া তারা ৬ রান তুলতেই হারায় প্রথম ৫ উইকেট, সেদিক থেকে দিল্লির গতকালের ৭ রান প্রথম ৫ উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। তবে তাদের মতো মাত্র ৮ রানেই ৬ উইকেট হারানোর নজির আর কারও নেই। মাত্র ৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বেঙ্গালুরু জিতেছে ৮১ বল হাতে রেখে। যা আইপিএলে লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল হাতে রেখে জয়।
এর আগে ২০০৮ সালে ৮৭ বল হাতে রেখে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৮ উইকেটে হারায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এদিকে, গতকাল বেঙ্গালুরু-দিল্লি ম্যাচটি স্থায়ী হয়েছে স্রেফ ১৩৮ বল (২৩ ওভার), যা আইপিএলের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দৈর্ঘ্যের ম্যাচ। ২০০৮ সালে মুম্বাই-কলকাতা ম্যাচটি মাত্র ১২৫ বলেই শেষ হয়েছিল। এ ছাড়া দিল্লির করা ৭৫ রান আইপিএলের ইতিহাসে সপ্তম সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মাত্র ৬৭ রানেই গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে কলকাতা (২০০৮) ও দিল্লির (২০১৭)। এর বাইরে বেঙ্গালুরু ৬৮, ৭০ (দু’বার) এবং পাঞ্জাব কিংসের ৭৩ রানে অলআউট হওয়ার নজির রয়েছে।
দিল্লির বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর স্পিনার সুয়াশ শর্মা ৪ ওভারের স্পেলে ২০ বল ডট করেন। যা আইপিএলের ইতিহাসে এক ইনিংসে কোনো স্পিনারের সর্বোচ্চ ডট এবং সবমিলিয়ে (পেসের হিসাবেও) যৌথভাবে সর্বোচ্চ। একই কীর্তি আছে তিন পেসারের– ২০০৯ আসরে কলকাতার বিপক্ষে রাজস্থানের মুনাফ প্যাটেল, ২০১৯ সালে কলকাতার বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের দীপক চাহার এবং ২০২২ আসরে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হায়দরাবাদের উমরান মালিক সমান ২০ বল ডট করেছিলেন। এ ছাড়া ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ৭ রান খরচ করেছেন সুয়াশ শর্মা। যা আইপিএলে কোনো স্পিনারের সবচেয়ে ইকোনমিক্যাল। পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে রাহুল শর্মাও ২০১১ সালে ৪ ওভারে ৭ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন।
দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়ার পথে জশ হ্যাজলউড ৪ এবং ভুবনেশ্বর কুমার ৩ উইকেট শিকার করেছেন। উভয়েই পাওয়ার প্লেতে ৩টি করে উইকেট নেন, যা আইপিএলের পাওয়ার প্লেতে প্রথমবার দেখা গেল। এ ছাড়া দুজন মিলে ১৭ রানে ৭ উইকেট যৌথভাবে চতর্থ সেরা বোলিং ফিগার। এই তালিকায় সবার উপরে ২৯ রানে ৮ উইকেট শিকার করা ইশান্ত শর্মা ও ডেল স্টেইন।
এদিকে, লক্ষ্য তাড়ায় বেঙ্গালুরুর তারকা বিরাট কোহলি ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে আইপিএলে তার রান পৌঁছাল ৯০১২–তে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটির প্রথম কোনো ব্যাটার হিসেবে তিনি ৯ হাজার রানের মাইলফলক পূর্ণ করলেন। এর মধ্যে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ১১৭৪ (নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ) এবং দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে ১১৭২ রান (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) করেছেন ভারতীয় এই তারকা।
এবি/টিএ
এবি/টিএ