‘বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির আন্দোলন করেছিল জামায়াতে ইসলামী’
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৬ এএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছিল বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলামী ছিল। সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আপনারা বলেছেন— আমরা জঙ্গি। জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যে প্রমাণ করেছে জামাত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয়। শাজাহান চৌধুরী বলেন, আজকে কথা উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে, স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই মহান সংসদে মেহেরবানী করে, দয়া করে অতীতের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান এই জামাত ইসলামীকে বিশ্লেষণ করে জামায়াত ইসলামীকে দোষারোপ করার চেষ্টা করা আমার মনে হয় মোটেই ঠিক হবে না। কারণ হচ্ছে জামাত ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে যেইখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেইখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করা জন্য জামায়াত ইসলামী আন্দোলন করেছে।
তিনি বলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যখন আগরতলার ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল তখন তখনকার জামায়াত ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছিল। শুধু আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমির জামায়াতে ইসলামী আন্দোলনের নেতা যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্যে ১৯৭২ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৭৬ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলাম ছিল।
সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ। শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থযোগান দিয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান আমলে জামায়াতে ইসলামী। তাই জামাত ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ইতিহাস জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা বারবার অনেক তকমা দিয়েছিলেন। কোনো তকমাই জনগণ বিশ্বাস করে নাই।
ইউটি/টিএ