© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বালেন্দ্র শাহ পারলেন, তারেক রহমান পারছেন না কেন?

শেয়ার করুন:
বালেন্দ্র শাহ পারলেন, তারেক রহমান পারছেন না কেন?

ছবি: সংগৃহীত

ড. কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১০:৩১ এএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
তারেক রহমান এবং নেপালের ব্যালেন্দ্র শাহ দুজনেই একই বছর নির্বাচনের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দুজনেই নিজ নিজ দেশের অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছন। নেপালের ব্যালেন্দ্র শাহ ইতিমধ্যেই অভ্যূথ্থানের জন আকাংখ্যা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা ছিল প্রচন্ড সততা ও সাহসিকতার পরিচায়ক। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বালেন্দ্র শাহ ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং শুধু তিনি শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। একই সাথে ঘোষণাকে কাজে রূপান্তরও করেছেন

যেমন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, টুকুচা নদী পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগর শাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। দুর্নীতি রোধে ডিজিটাল পারমিট, লাইভ কাউন্সিল সভা সম্প্রচার এবং সম্পদ তদন্তের মতো স্বচ্ছতামূলক পদক্ষেপ নেন। শিক্ষা ও জনসেবায় সংস্কার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রথার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তাকে একটি পরিবর্তনমুখী, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। 

আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পারতেন কিছু বৈপ্লবিক কর্মসূচি হাতে নিয়ে দৃঢ়ভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করে জনগণকে দেখাতে পারতেন যে তিনিই ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেন। জুলাই এর সনদে কি আছে তার চেয়েও বরং বেশি কিছু করে জনগণের আস্থা অর্জন করে বড় নেতা হওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি ঘোষণা দিতে পারতেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত আবাসিক হলে প্রকাশ্য বা গোপনে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলবে না। ব্যালেন্দ্র শাহতো ঘোষণা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতির অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ করার বৈপ্লবিক ঘোষণা দিয়ে বাস্তবায়ন করে ফেলেছেন।

ঢাকার নদী ও খালগুলোর মধ্যে প্রতীকী স্বরূপ অন্তত কয়েকটির দখলমুক্ত করে পুনঃখনন ও পরিষ্কার করে এইগুলোর নবজীবন দিয়ে দেখাতে পারতেন। ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা আনার ঘোষণা দিয়ে সেখানে একটি কোম্পানির অধীনে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি আনতে চেষ্টা করতে পারতেন। ঢাকার সবগুলো প্রাথমিক স্কুলকে উন্নত মানে পরিণত করে সকল সরকারি কর্মচারী, কর্মকর্তা ও এমপি মন্ত্রীদের সেই স্কুলে পড়া বাধ্যতামূলক করতে পারতেন। সকল মাধ্যমিক স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত উন্নীত করে সেখানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিতে পারতেন। 

 ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য বীমা বোর্ডে পুনর্নিয়োগ দেওয়ায় মন্ত্রীকে পদচ্যুত করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। আর আমরা বাংলাদেশে কি দেখছি খোদ বিসিবির বোর্ডে ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতাবান মন্ত্রী ও নেতাদের আত্বীয়রা বড় বড় পদ পাচ্ছে। যখন শুনেছিলাম "I have a plan" খুব আশা করেছিলাম। দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকে এমন একজনকে গভর্নর করা হলো যার যোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং যার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ পর্যন্ত আছে। এছাড়া আরও নানা অভিযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় বড় পদে নিয়োগে মারাত্মক দলীয়করণ দেখা যাচ্ছে। এইসব কিছুই প্রমান করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আশানুরূপ কাজ করতে পারছে না। অথচ সুযোগ ছিল মিজেকে বড় নেতা হিসাবে প্রমানের। সুযোগ ছিল ইতিহাসে নাম লেখানোর মত কাজ করা। সুযোগ ছিল দেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। অথচ মানুষ খুব দ্রুতই আশাহত হচ্ছে। এখনো সময় আছে। কিছু করার।

এমন নেতা কবে পাব মোরা,
মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ধরা।

লেখক: ড. কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এসএস/এসএন

মন্তব্য করুন