বজ্রপাতে চার জেলায় মৃত্যু ৫
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৯ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
বজ্রপাতে জামালপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর ও শরীয়তপুরে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জামালপুরে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি এলাকার শামীম মিয়া (৩৭) এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সাগর ইসলাম (১৮)। তাদের মধ্যে শামীম কৃষিকাজ করেন এবং সাগর ইসলাম নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পৃথক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে শামীম পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। প্রায় একই সময়ে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণের কাজ করছিলেন সাগর ইসলাম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাইয়ূম গাজী বলেন, ‘বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
এদিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক যুবক মারা গেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন (৩২)। তিনি তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে সকাল সাতটার দিকে মাছ ধরতে যান সাদ্দাম হোসেন। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, ‘মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ওই যুবকের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
বজ্রপাতে রংপুরের তারাগঞ্জে সাহেরা বেগম (৫০) নামের এক নারী মারা গেছেন। তার একটি গরু বাড়ির উঠানে আমগাছে বাঁধা ছিল। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে সেই গরু গোয়ালে নিতে বের হন সাহেরা। গরুটি আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাহেরা বেগম তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করে সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো পরিবারে মাতম চলছে।’
শরীয়তপুরের মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়ি রাজিব শেখ (৩২)। তাঁর বাড়ি নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়ায়। তিনি পেশায় জেলে ও কৃষক ছিলেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলাল মকদম দেশের এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাইজপাড়া এলাকার রাজিব শেখ কৃষি কাজ ও মাছ শিকারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আজ দুপুরে কীর্তিনাশা নদীতে দুপুরের দিকে মাছ শিকার করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে রাজিবের শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজিবের লাশ নদীর তীরে তুলে আনেন। নিহত রাজিবের একটি শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ূম দেশের এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। ওই পরিবারটির পাশে যে কোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।’
টিএ/