আদালতে হাজির হয়ে কী বললেন নিহত লিমন-বৃষ্টির বন্ধুরা?
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৭ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে লিমনের রুমমেট সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহকে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত অভিযুক্ত আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দী করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশীদের একটি দল আদালতে উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল লিমন ও বৃষ্টির সহপাঠী ও বন্ধু।
তাদের বন্ধু সালমান সাদিক শুভ বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’ চলমান মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায়িত্বশীল মনে করি, আমাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত বলে মনে করি। আমাদের অন্য বন্ধুরা আছে, অন্যান্য মানুষও আছে, যারা লিমন ও বৃষ্টিকে ভালোবাসে এবং তাদের হত্যা মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখানে আমরা যা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি, তাদের তা জানাতে চাই।’
রিফাতুল ইসলাম নামের আরেক তরুণ বলেন, ‘আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যে জায়গাকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বলে মনে করি—আমাদের বাড়ি, আমাদের নিজের ঘর, আমাদের নিজের রান্নাঘর সেখানেই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমাদের খুবই হতবাক করেছে। আমি বুঝতে পারছি না কী বলব, এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো এই ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা। এই মুহূর্তে এটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
এদিকে স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ আদালতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু এবং সহপাঠীদের এমন উপস্থিতি দেখে বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি তাদের এত বন্ধু আসবেন। তবে আমরা ভেবেছিলাম, তাদের পরিবারের একজন সদস্য উপস্থিতি থাকবেন।’ লিমন–বৃষ্টিকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তাদের বন্ধুদের এই সমর্থন দেখে স্টেট অ্যাটর্নি খুবই খুশি হয়েছেন।
লোপেজ আরও বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রথমে আমাদের গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে, এরপর আমরা ঠিক করব, আমরা মৃত্যুদণ্ড চাইব কি না।’
আইকে/টিএ