‘আমাকে ২০ হাজার টাকা দেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে লেখবো না’
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫২ এএম | ০১ মে, ২০২৬
ফরিদপুরে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে জেলা বিআরটিএর এক কর্মকর্তার টেবিলের কাঁচ ভাঙচুরের অভিযোগে সাংবাদিক পরিচয়ধারী বৈষম্যবিরোধী নেতা জনি বিশ্বাসকে (২৯) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ফরিদপুর কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।
জনি বিশ্বাস ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ফরিদপুর শহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। জনি বিশ্বাস ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই জনি বিশ্বাস তার অফিস কক্ষে ঢুকে পড়ে। জনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনি দুর্নীতি করে অনেক টাকা কামিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আমাকে ২০ হাজার টাকা দেন, তাহলে আমি আপনার বিরুদ্ধে লেখালেখি করবো না।
মেহেদী হাসান বলেন, আমার কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি করায় আমি বিস্মিত হই। তিনি সাংবাদিক কিনা তা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি আমার অফিসের টেবিলে থাপ্পর দিয়ে টেবিলের কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। শব্দ পেয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মীরা এসে তাকে আটক করেন। পরে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন। এরপর জনি বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ।
বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানান, অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আটকের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ভাঙচুরসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করতে শোনা যায় জনি বিশ্বাসকে। এ সময় তিনি নিজেকে ফরিদপুরের স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেন। সংবাদ সংগ্রহে মোটরযান পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি অফিসে গিয়ে চাঁদা দাবি ও টেবিলের কাঁচ ভাঙচুরের খবর পেয়ে জনি বিশ্বাসকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
টিজে/টিএ